কেন্দ্রে কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরলেই আরএসএস-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হবে। এমনই বিস্ফোরক ঘোষণা করলেন কর্নাটক সরকারের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খড়গে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গের পুত্র এবং সিদ্দারামাইয়া মন্ত্রিসভার সদস্য প্রিয়াঙ্কের এই বক্তব্যে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে।
প্রিয়াঙ্ক বলেন, “দেশে আজ যে ঘৃণা, বিভাজন এবং সংবিধান বদলের আলোচনা চলছে, তার জন্য মূলত আরএসএস দায়ী। তারা সরাসরি না বললেও, তাদের কার্যকলাপ এই পথেই যাচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, সংঘ পরিবারের কেউই কখনও বেকারত্ব, সন্ত্রাসবাদ বা অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে মুখ খোলেন না, বরং ঘৃণার রাজনীতি চালিয়ে যান। তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসি, তাহলে আইনত আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করব। দেশের ঐক্য, সংবিধান ও গণতন্ত্র বাঁচাতে এটা জরুরি।”
আরএসএস-কে বিজেপির মতাদর্শগত গুরু বলে মনে করা হয়। প্রিয়াঙ্কের এই মন্তব্যের সমালোচনা করেছে বিজেপি। কর্নাটকের যুব নেতা তথা বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্যের মন্তব্যের জবাবে এক্স-এ পাল্টা আক্রমণ করেন প্রিয়াঙ্ক। তিনি লেখেন, ‘বিজেপির বেশিরভাগ কর্মী জানেই না তাঁদের দলের সভাপতি কে। মোদি-নাড্ডাই তাঁদের একমাত্র ‘হাইকমান্ড’। আর মোদি যখন চাপের মুখে থাকেন, তিনি আরএসএসকে রিপোর্ট করতে নাগপুরে চলে যান, সংসদে আসেন না।’
এর আগেও প্রিয়াঙ্ক কর্নাটকে বজরং দল ও পিএফআই-এর মতো সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি করেছিলেন। কংগ্রেস সেই প্রতিশ্রুতি তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারেও অন্তর্ভুক্ত করেছিল। স্বাধীনতার পর থেকে তিন বার আরএসএস-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ১৯৪৮ সালে গান্ধী হত্যা মামলায়, ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থার সময় এবং ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর।
