সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে হঠাৎ ট্রেন্ডিং সোহম পারেখ! কেউ বলছেন ভালো তো কেউ বলছেন খারাপ। কিন্তু কেন হঠাৎ করে ট্রেন্ডিং হলেন সোহম! কেনই বা তাঁকে ঘিরে এত চর্চা। অভিযোগ, ভারতীয় এই প্রযুক্তিবিদ একসঙ্গে একাধিক স্টার্টআপের সঙ্গে যুক্ত।
এক Reddit ইউজারের দাবি, কার্যত ঘোল খাইয়ে পাঁচ সংস্থায় কাজ করে প্রত্যেক বছর সে ৬.৮৫ কোটি টাকা রোজগার করছে। চমকে গেলেন তো! এমনভাবেই অবাক হয়েছে নেট দুনিয়াও । শুধু ওই রেডিট ইউজারই নয়, মার্কিন এক উদ্যোক্তা সোহমের বিরুদ্ধে একাধিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অভিযোগ এনেছেন। কিন্তু কীভাবে একসঙ্গে পাঁচ সংস্থায় কাজ করলেন তিনি? কীভাবেই বা ‘মুনলাইটিং’ করতেন?
কে এই সোহম পারেখ?
ভারতীয় এক প্রযুক্তিবিদ সোহম! জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে মাস্টার ডিগ্রি করেছেন তিনি! একসঙ্গে একাধিক স্টার্টআপে কাজ করে সঙ্গে জালিয়াতির অভিযোগ উঠছে সোহমের বিরুদ্ধে। মার্কিন এক উদ্যোক্তার দাবি, সোহম ‘মুনলাইটিং’ করে কাজ করে। অর্থাৎ গোপনে একাধিক জায়গায় কাজ করেন এই সোহম। যদিও ইতিমধ্যে সোহমের পাশে অনেকেই দাঁড়িয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, এটা হিমশৈলের চূড়া মাত্র! একজন এআই বিনিয়োগকারীর দাবি, এমন বহু সোহম রয়েছেন, যাদের বিষয়ে সংস্থা জানেই না। তা বলতে গিয়ে বেশ কিছু উদাহরণ সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন ওই ব্যক্তি। তাঁর কথায়, কেউ কেউ রিমোট জবের আশ্রয়ে একাধিক সংস্থায় কাজ করছে। কেউ আবার ‘মাউস জাগলার’ ব্যবহার করছে। উল্লেখ্য, ‘মাউস জাগলার’ এমন একটি ছোট ডিভাইস যা ধীরে ধীরে মাউসকে নাড়াবে আর কম্পিউটারকে অ্যাকটিভ রাখবে, যাতে কেউ না বুঝতে পারে যে ওয়ার্ক ফ্রম হোমে সংশ্লিষ্ট কর্মী কাজের মধ্যে নেই।
ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন এআই টুল!
সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ইউজার বলছেন, অনেক ক্ষেত্রেই কর্মী এআই’য়ের বিভিন্ন টুলকে ব্যবহার করছে। বন্ধ রাখা হচ্ছে ক্যামেরা, কেউ কেউ আবার সপ্তাহে লম্বা ছুটি নিয়ে নিচ্ছে। আর এভাবেই একসঙ্গে একাধিক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সোহম পারেখের মতো কর্মীরা মোটা অঙ্কের রোজগার করছেন বলে দাবি।
বছরে ৬.৮৫ কোটি টাকা রোজগার!
ওই এআই বিনিয়োগকারী Reddit এর একটি স্ক্রিনশট তুলে ধরেছেন। যেখানে এই বিষয়ে একাধিক আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে এক কর্মী পাঁচটি জায়গায় কাজ করে বছরে প্রায় ৬.৮৫ কোটি টাকা আয় করার কথা জানিয়েছেন। ওই বিনিয়োগকারীর কথায়, Reddit কমিউনিটিতে পাঁচ লাখেরও বেশি সদস্য রয়েছে। Reddit ইউজার, এক ডেটা এক্সপার্ট।
কীভাবে কাজ করেন সোহম
জানা গিয়েছে, সোহম রিমোটে কাজ করতেন বেশি। ফলে অফিস যাওয়ার প্রয়োজন ছিল না। এমনকী মিটিং এড়িয়ে যেত সে। সোহম নিজেকে ‘কনসালটেন্ট’ বলতেই পছন্দ করতেন। আর সেই দাবি করে প্রত্যেকদিনের গুরুত্বপূর্ণ ফোনকলকেও সে এড়িয়ে যেত। কিন্তু তা সামাল দেওয়া খুব একটা সহজ কাজ ছিল না! প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, US টাইমজোনে সোহম পারেখ কাজ করত। আর এভাবেই তিন বছর ধরে একাধিক সংস্থাকে সে সামলেছে। অনেকেই বলছেন, এভাবে একাধিক সামলানোর ক্ষেত্রে বিশেষ গুণ থাকতে হয়। আর তা সোহমের মধ্যে আছে! যেখানে একটা সংস্থায় কাজ করা দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে সোহমের ট্যালেন্টকে অনেকেই স্যালুট জানাচ্ছেন। তাঁর সিভি-তেও একাধিক ফার্মের নাম রয়েছে।
