প্রবল বৃষ্টিতে ভাসছে হিমাচল প্রদেশ। ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে রাজ্য জুড়ে পর পর ধস, বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬৩ জন। নিখোঁজ আরও ৪০ জন। রাজ্য সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ইতিমধ্যেই ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা মাণ্ডি, যেখানে ১৭ জনের মৃত্যু ও ৩০ জন নিখোঁজ বলে জানানো হয়েছে। মাণ্ডির থুনাগ, বগসায়েড, করসোগ ও ধর্মপুর এলাকায় ব্যাপক ধস ও জলস্ফীতি দেখা গেছে। এই অঞ্চলগুলি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুরের বিধানসভা এলাকার অন্তর্ভুক্ত। অন্যান্য জেলার হিসেব অনুযায়ী, কাংড়ায় ১৩ জন, বিলাসপুর ও চম্বায় ৬ জন করে, শিমলায় ৫ জন, কুল্লুতে ৪ জন, সোলান ও চাম্বায় ২ জন করে এবং উনা ও লাহৌল-স্পীতিতে ১ জন করে মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১০৯ জন। পাশাপাশি, প্রবল বৃষ্টিতে মারা গেছে ২৮৭টি গবাদি পশু, যার জেরে চাষবাস নির্ভর এলাকার আর্থিক ক্ষতি আরও বেড়েছে। ভারি বৃষ্টির কারণে বহু রাস্তা ও সেতু ধসে পড়েছে, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বেশ কয়েকটি গ্রাম এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজ্যে ৬ জুলাই পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত চলবে। তাতে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা। রাজ্য সরকার ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দিনরাত উদ্ধার ও ত্রাণে নিযুক্ত থাকলেও আবহাওয়ার প্রতিকূলতা তাতে বাধা সৃষ্টি করছে।
সরকারের তরফ থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং প্রয়োজনে যোগাযোগ করার জন্য হেল্পলাইন নম্বর চালু রাখা হয়েছে। বর্ষার শুরুতেই এমন বিপর্যয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ, দু’পক্ষের কাছেই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
