বিজেপির জাতীয় সভাপতি পদে আসতে পারে এবার বড়সড় পরিবর্তন! বর্তমানে এই পদে রয়েছেন জেপি নাড্ডা। ২০২০ সাল থেকে বিজেপির জাতীয় সভাপতি পদের দায়িত্বে আছেন তিনি। যদিও তাঁর মেয়াদ ২০২৩ সালে শেষ হয়ে যায়। তবে লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত তাঁকে দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
সূত্র বলছে, এবার বিজেপির জাতীয় সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে কোনো নেতা নয়, একজন মহিলা নেত্রী বসতে পারেন। যদি তা হয়, তাহলে এটি হবে বিজেপির ইতিহাসে প্রথম মহিলা সভাপতি। এবার দেখা যাক বিজেপির জাতীয় সভাপতি পদ পাওয়ার দৌড়ে রয়েছেন কারা।
নির্মলা সীতারামন: বর্তমান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। ২০১৯ সাল থেকে তিনি এই পদে রয়েছেন। তামিলনাড়ু থেকে উঠে আসা এই নেত্রী দলের মধ্যে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও অভিজ্ঞ। দক্ষিণ ভারতে বিজেপির বিস্তারেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। কিছুদিন আগে জেপি নাড্ডা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক বি.এল. সন্তোষের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন নির্মলা।
ডি পুরন্দেশ্বরী: অন্ধ্রপ্রদেশ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ডি পুরন্দেশ্বরী। তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের পক্ষে সন্ত্রাসবিরোধী বক্তব্য পেশ করেছেন। “অপারেশন সিঁদুর”–এর অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইইউ, ইটালি ও ডেনমার্কে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা এই পদে তাঁকে এগিয়ে রাখতে পারে।
বনাথি শ্রীনিবাসন: বিজেপির মহিলা মোর্চার প্রাক্তন জাতীয় সভানেত্রী বনাথি শ্রীনিবাসন। ২০২১ সালের তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোর (দক্ষিণ) আসন থেকে অভিনেতা কমল হাসানকে পরাজিত করে বিধানসভায় জয়ী হন। ১৯৯৩ সাল থেকে তিনি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত এবং ২০২২ সালে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটির সদস্য হন।
তবে প্রশ্ন উঠছে, কেন একজন মহিলা নেত্রীকে বিজেপির সভাপতি হিসেবে ভাবা হচ্ছে? গত কয়েকটি নির্বাচনে মহিলা ভোট বিজেপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়াও, ২০২৩ সালে সংসদে পাস হওয়া নারী সংরক্ষণ বিল–এর সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এই বিল অনুযায়ী লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। বিজেপির পক্ষ থেকে যদি একজন মহিলা সভাপতি নিয়োগ করা হয়, তাহলে তা দলীয় স্তরে নারী ক্ষমতায়নের প্রতীক হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
