দেশের অন্যতম বড় মেডিক্যাল দুর্নীতির পর্দাফাঁস সিবিআইয়ের। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, দুর্নীতিতে জড়িত খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রকের আধিকারিক থেকে শুরু করে স্বঘোষিত ধর্মগুরুও। পরিকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও বেআইনি উপায়ে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের ছাড়পত্র পেতে কয়েকটি মেডিক্যাল কলেজ লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়েছে বলে অভিযোগ। দেশের কোনায় কোনায় হাওয়ালা যোগের মাধ্যমে ঘুষের টাকা নাকি পাচারও করা হত বলে দাবি সিবিআইয়ের।
দেশে ডাক্তারি নিয়ে উচ্চশিক্ষায় ঘুঘুর বাসা খুঁজে বের করল সিবিআই। এফআইআরে ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করেছে তদন্তকারী সংস্থা। তাতে নাম রয়েছে প্রাক্তন ইউজিসি কর্তা তথা বর্তমানে TISS-এর আচার্য ডিপি সিং, স্বঘোষিত ধর্মগুরু রাওয়াতপুরা সরকার, ইন্দোরের ইনডেক্স মেডিক্যাল কলেজের সুরেশ সিং ভাদোরিয়া, অবসরপ্রাপ্ত আইএফএস অফিসার সঞ্জয় শুক্লা। রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটির (RERA) চেয়ারম্যান পদে ছিলেন সঞ্জয়। গুরু রাওয়াতপুরার দলের একজন ট্রাস্টি ছিলেন শুক্লা। যদিও এই কেলেঙ্কারিতে এখনও পর্যন্ত মাত্র ডিরেক্টর অতুল তিওয়ারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
সিবিআই সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ভুয়ো শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগ করে, ভুয়ো ইনস্পেকশন চালিয়ে দুর্নীতি করা হত। পড়ুয়াদের ভর্তি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতানো দুর্নীতির উদ্দেশ্য ছিল। রাজস্থান, গুরগাঁও থেকে ইন্দোর হয়ে দক্ষিণে বিশাখাপত্তনমে হাওয়ালা যোগে দুর্নীতির কোটি কোটি টাকা পৌঁছে যেত। এনএমসির আধিকারিকদের ঘুষ দিয়ে ছাড়পত্র আদায় করত নিম্নমানের মেডিক্যাল কলেজগুলি। সিবিআই জানিয়েছে, এফআইআরে ৩৫ জনের মধ্যে নাম থাকা আট জন আবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের আধিকারিক। রয়েছেন পাঁচ জন চিকিৎসকও।
ছত্তীসগঢ়ের রায়পুরে রাওয়াত পুরা সরকারের মেডিক্যাল কলেজে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত শুরু করে সিবিআই। তদন্তে নেমে চোখ কপালে ওঠে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। ৫৫ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তিন চিকিৎসক-সহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করে সিবিআই। আরও চিকিৎসককে হাতেনাতে ধরে ফেলেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হয় লক্ষ লক্ষ টাকা। হাওয়ালা চক্রের মাধ্যমে ঘুষের টাকা নিয়ে পরে তা ভাগাভাগি করা হত বলে দাবি। রায়পুর থেকে তদন্ত শুরু হলেও গোটা দেশেই এই দুর্নীতির শিকড় রয়েছে বলে জানিয়েছে সিবিআই।
ইউটিউবেও জাজবাত, আপডেট থাকুন আমাদের সঙ্গে
তবে সিবিআইয়ের বিশেষ নজরে রয়েছেন স্বঘোষিত ধর্মগুরু রাওয়াতপুরা। রায়পুরের ওই মেডিক্যাল কলেজের চেয়ারম্যান এই ধর্মগুরু। বিভিন্ন রাজনীতিক, মন্ত্রী, প্রভাবশালী ব্যক্তি , পুলিশকর্তা ও সরকারি আমলাদের সঙ্গে তাঁর দহরম মহরম ছিল বলে দাবি। রাওয়াতপুরা ট্রাস্টের লেনদেনও তদন্তের ব়্যাডারে আনা হয়েছে। ওই ধর্মগুরুর সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালীদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতেও দেখা গিয়েছে।
