সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
কংগ্রেসকে খোঁচা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলাকে বন্ধু বানালেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। জাতীয় স্তরে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার নেতৃত্বের সমালোচনা করেও উগ্রপন্থীদের রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকে বিজেপি যে তকমা দিতে চাইছে তার বিরোধিতা করলেন ওমর। কাশ্মীরের জঙ্গিহানার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে ট্যাগ লাইন করে উগ্রপন্থীদের রাজ্য বলে বিজেপি যেভাবে সম্বোধন করেছে তার বিরোধিতায় জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “পহেলগাঁও ঘটনার আগে বিজেপি কাশ্মীরকে স্বর্গরাজ্য বলত। তাহলে এখন কি হলো? আট বছর বিজেপি ক্ষমতায় থেকে কাশ্মীরের কী পরিণতি করেছে সেটা আগে জবাব দিক। তাহলে তো কাশ্মীরের পরিস্থিতির জন্য বিজেপিকে কাশ্মীরের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তারপর মমতা দিদির দিকে আঙ্গুল তুলবেন।”
বস্তুত এদিন জাতীয় স্তরের বিরোধী জোট ইন্ডিয়া প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থন এই কথা বলেন ওমর। ইন্ডিয়া’র নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে বকলমে কংগ্রেসকে খোঁচা দিলেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি। কেন্দ্র বিরোধী লড়াইয়ে ইন্ডিয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে অমর বলেন, “ইন্ডিয়ায় যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁদেরই তো কোনো ঠিক নেই। তাঁরা কোন বৈঠক করেন না।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
শেষবার খারগেজির বাড়িতে বৈঠক হয়েছিল,তারপর আর কোন খবর নেই। আমি আর মমতাদি এ নিয়ে অনেকবার কথা বলেছি কিন্তু নেতৃত্বের কোন সাড়া মেলেনি।” এমনকি, এনআরসি ও ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশন নিয়েও কেন্দ্র বিরোধী সুর ছড়িয়েছেন ওমর আবদুল্লাহ। সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে বিধান দিলেও ভোটার তালিকা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে আওয়াজ তুলেছেন সেই আওয়াজের অনুসারী হয়েই ন্যাশনাল কনফারেন্স কাশ্মীরে আম কাশ্মিরীদের ভোটাধিকারের অধিকার রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাবে বলেও এদিন উল্লেখ করেছেন ওমর আবদুল্লাহ।
বস্তুত, এদিন নবান্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে ইন্ডিয়ার এই নেতৃত্বহীনতা নিয়েও আলোচনা করেছেন ওমর আব্দুল্লাহ। এ ব্যাপারে মমতা যে তার সঙ্গে একমত হয়েছেন সে কথাও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি কাশ্মীরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এদিন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী জানান, ” পর্যটন তথা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে জম্মু-কাশ্মীর সরকার স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। নিরাপত্তার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। আমরা কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলেছি যে নিরাপত্তার দায়িত্ব জম্মু-কাশ্মীর সরকারের হাতে দেওয়া হোক। কেন্দ্রের মনোভাব কী তা বলতে পারব না তবে আমরা আমাদের দাবির স্বার্থে লড়াই চালিয়ে যাব।”
আরও পড়ুন
মূলত পহেলগাঁও কাণ্ডের পর পর্যটকদের কাশ্মীরে যাওয়ার জন্য আবেদন করছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। কিন্তু পর্যটকদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করতে পারবে জম্মু-কাশ্মীর সরকার? মুখ্যমন্ত্রী ওমরের বক্তব্য, “গোটা কাশ্মীর প্রশাসন সমস্ত পর্যটন কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং পর্যটকরা যাতে নির্ভয়ে ও নিরাপদে কাশ্মীর ভ্রমণ করতে পারেন সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। যদিও পহেলগাঁও কান্ডের মূল অভিযুক্তদের কাউকেই এখনো কেন গ্রেফতার করা যায়নি, সেই প্রশ্ন উঠলে ওমরের জবাব, “গ্রেফতার করতে সময় লাগে। এটা নিয়ে এত তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই। আমার আশা দোষীরা সবাই গ্রেফতার হবে।।”
উল্লেখযোগ্য, কাশ্মীরে পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রশ্নে প্রশাসনিক তৎপরতা যেমন প্রয়োজন তেমনি কাশ্মীরের রাজনৈতিক ঐক্যমতের বিষয়টাও যথেষ্ট জরুরি। পহেলগাঁও ঘটনার পাঁচ দিন পর জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ যে মর্মস্পর্শী ভাষণ দিয়েছিলেন সেখানে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে স্থানীয় কাশ্মীরিরা যেভাবে এই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও জেহাদ দেখিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না করে বরং তাদের পাশে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক ঐক্যমত হওয়া প্রয়োজন।
ইউটিউবেও জাজবাত, আপডেট থাকুন আমাদের সঙ্গে
প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি কাশ্মীরে এই রাজনৈতিক ঐক্যমতের ছবিটা কীরকম? উত্তরে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী জানান, ” রাজনৈতিক ঐক্যমতের চেষ্টা চলছে, আহ্বান করা হয়েছে। তবে আম কাশ্মীরিরা কোনও নির্দোষ মানুষের প্রাণহানি চায় না।” হয়তো পহেলগাঁও সাধারণ কাশ্মীরিদের এই পট পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে এনে দাঁড় করিয়েছে যাকে মূলধন করে কাশ্মীরের মাটিতে নতুনভাবে রাজনৈতিক ভিত মজবুত করতে চাইছেন ওমর আবদুল্লাহ।
