গঙ্গা ভাঙন বড় চ্যালেঞ্জ বাংলায়। জেলাতেই নয়, কলকাতার বহু ঘাট ভাঙনের গ্রাসে। একদিকে সংস্থার করা হলে, অন্য অংশ নদীর গ্রাসে চলে যাচ্ছে। লঞ্চ কিংবা নদীবক্ষে যাত্রা করলে সেই ভাঙনের ছবির স্পষ্ট ধরা পড়ে। তবে এই অবস্থায় কুমোরটুলি ঘাটের রূপ ফেরাতে এগিয়ে গেল আদানি গোষ্ঠী। মহানগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলির মধ্যে একটি কুমোরটুলি। একদিকে এই এলাকা জুড়ে রেয়েছে মৃৎশিল্পীদের বসবাস। অন্যদিকে বহু মানুষ এই ঘাট যান। নদী ভাঙন এবং সংস্কারের অভাবে এই ঘাটের অবস্থাও খুবই খারাপ।
তবে আদানির হাত ধরে নতুন করে সেজে উঠবে কুমোরটুলি। কলকাতার শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে আদানি। যৌথভাবে এই সংস্কারের কাজ করা হবে। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পুরো সংস্থারের কাজ হবে পিপিপি মডেলে। ইতিমধ্যে কলকাতা শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর কতৃপক্ষের সঙ্গে একটি মউ স্বাক্ষর হয়েছে। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, আদানি গোষ্ঠীর আওতাধীন আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকনমিক জোন এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
যা খবর খুব শীঘ্রই কুমোরটুলি ঘাটের সংস্কারের কাজ শুরু হবে। ঘাটটিকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ভাবে তৈরি করাই মূল উদ্দেশ্য হবে বলে দাবি করা হয়েছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরের চেয়ারম্যান রথেন্দ্র রমন জানিয়েছেন, শুধুমাত্র পুনরুদ্ধার কিংবা পুনঃস্থাপন করা নয়, বাংলার শিল্প এবং ঐতিহ্যকে মাথায় রেখেই সংস্কার হবে। ওই আধিকারিকের কথায়, এই সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্যই হল বাংলার ঐতিহ্যকে নতুন করে বাঁচিয়ে তোলা।
অন্যদিকে আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকনমিক জোনের বিজনেস ডেভেলপমেন্টের প্রেসিডেন্ট সুব্রত ত্রিপাঠী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কলকাতার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আবেগ। আর কুমোরটুলির মতো একটি ঐতিহ্যবাহী জায়গার সংস্কারের দায়িত্ব পাওয়া গর্বের এবং সম্মানের। সুব্রতবাবু আরও জানিয়েছেন, এই জায়গাটি কলকাতার অন্যতম পর্যটন ক্ষেত্র। সেই কথা মাথায় রেখেই এই সংস্কারের কাজ করা হবে বলেও মন্তব্য।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
বলে রাখা প্রয়োজন, বাংলায় তাজপুর বন্দর গড়ার টেন্ডার পায় আদানি গোষ্ঠী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে এই সংস্কার চুক্তিও হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তা আর বাস্তব হয়নি। তবে রাজ্যে একাধিক ক্ষেত্রে বহাল তবিয়তে কাজ করে চলেছে আদানি গোষ্ঠী। এ বার খোদ কলকাতার কুমোরটুলি ঘাট সংস্কারের দায়িত্ব পেল আদানি।
