আমেরিকায় বেড়াতে গিয়ে চুরির অভিযোগে ধরা পড়লেন এক ভারতীয় মহিলা। অভিযোগ, তিনি ইলিনয় রাজ্যের একটি টার্গেট স্টোর থেকে প্রায় প্রায় ১৩০০ মার্কিন ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় ১.১ লাখ টাকার সামগ্রী চুরি করেন। এই চুরির ঘটনার পরই ভারতের মার্কিন দূতাবাস একটি জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে চুরি ডাকাতির মতো ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
দূতাবাস জানিয়েছে, “আমেরিকায় যদি কেউ চুরি, মারধর বা ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, তবে শুধু আইনি ঝামেলাই নয়, তার ভিসাও সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হয়ে যেতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনাও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।” মার্কিন দূতাবাস তাদের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে এই সতর্কতার বার্তা পোস্ট করেছে। তাতে আরও বলা হয়েছে, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আইনের শাসনের উপর অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই বিদেশি নাগরিকদের প্রত্যাশা করা হয় যে তারা সমস্ত মার্কিন আইন মেনে চলবেন। এমনকী ছোটখাটো অপরাধও ভবিষ্যতের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।”
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
সূত্র অনুযায়ী, অভিযুক্ত মহিলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে গিয়েছিলেন। স্টোরের এক কর্মচারী পুলিশকে জানিয়েছেন, মহিলা দীর্ঘ চার ঘণ্টা ধরে দোকানের নানা সেকশনে ঘোরাঘুরি করেন এবং পরে দোকান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় কিছু জিনিসের বিল না মিটিয়েই চলে যাচ্ছিলেন। ঘটনার একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ তাকে থামালে তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমি কোনও ভুল করতে চাইনি। আমি জিনিসগুলোর দাম দিতে রাজি আছি। দয়া করে আমাকে আটকাবেন না। আমি বিপদে পড়তে চাই না।” পুলিশ তাঁকে পাসপোর্ট দেখাতে বললে, মহিলা বলেন, “আমি খুব দুঃখিত। কী করব বুঝতে পারছি না। দয়া করে আমাকে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাবেন না।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া ছড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ভিনদেশে বেড়াতে গিয়ে এমন অনৈতিক কাজ একদিকে যেমন ব্যক্তিগত ক্ষতি, তেমনই দেশের সম্মানকেও ক্ষুন্ন করে। মার্কিন দূতাবাসের এই সতর্কবার্তা তাই সকল ভারতীয়র জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে গেলে স্থানীয় নিয়ম-কানুন ও আইন মেনে চলা সকলের কর্তব্য। আর এই বার্তাই স্পষ্টভাবে দিতে চেয়েছে মার্কিন প্রশাসন
