পহেলগাঁও হামলায় অভিযুক্ত টিআরএফকে জঙ্গি সংগঠন ঘোষণা করার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাল পাকিস্তান। লস্করের ছায়া সঙ্গী টিআরএফকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা অনৈতিক দাবি করে পাকিস্তানের প্রশ্ন, পহেলগাঁও মামলার তদন্ত এখনো অমীমাংসিত। সেই হামলার দায়ে কীভাবে টিআরএফকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করা হল।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও জানান, দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমেরিকার এই ঘোষণার পর শুক্রবার ভারতের তরফে মার্কিন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ভারত বিবৃতি জারি করে বলেছে, সন্ত্রাসদমনে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের গভীর সহযোগিতা রয়েছে। সেটারই প্রতিফলন ঘটেছে এই সিদ্ধান্তে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদের প্রতি তাদের জিরো টলারেন্স নীতি কারও অজানা নয়। তারা সন্ত্রাসবাদের এর বিরুদ্ধে “ফ্রন্টলাইনে” রয়েছে। পাশাপাশি ‘পাকিস্তান সকল প্রকার সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আমাদের নীতির মূল ভিত্তি।’ পাকিস্তান আরো জানিয়েছে, “পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একটি অগ্রণী রাষ্ট্র ছিল এবং রয়েছে। অ্যাবে গেট বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী সন্ত্রাসী শরীফুল্লাহকে গ্রেফতারের মাধ্যমে তা আগেই প্রমাণ করেছে পাক সরকার।’
পাকিস্তান টিআরএফ জঙ্গি তালিকাভুক্ত হতেই সুর চড়িয়েছে অথচ তার দেশে পালিত এলইটি-র সঙ্গে যে কোনো ধরনের সম্পর্ক অস্বীকার করে এসেছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, সে সবসময় এরকম জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, তাদের নেতৃত্বকে গ্রেফতার করেছে এবং নির্দ্বিধায় বিচার করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ যে পাকিস্তানের জন্য বড় ধাক্কা, সেকথা বলাই বাহুল্য। কুখ্যাত এই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে বাঁচাতে পাকিস্তানের এই তৎপরতায় স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে, কেন টিআরএফকে বাঁচাতে চাইছে ইসলামাবাদ?
উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল পহেলগাম হামলায় ২৬ জন ভারতীয়ের নরসংহারের পর দায় স্বীকার করে লস্করের ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্ট ফ্রন্ট’। কিন্তু কয়েকঘন্টার মধ্যেই তা প্রত্যাহারও করে নেয় টিআরএফ। তবে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর প্রথমে টিআরএফের তরফে দায় স্বীকার করা ও পরে তা অস্বীকার করার নেপথ্যেও পাকিস্তানের হাত দেখছেন তদন্তকারীরা। এবং পুরোটাই হয়েছে পরিকল্পিত ছকে। এই ঘটনার তিন মাস পরে টিআরএফের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে আমেরিকা। ২২ এপ্রিলের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিন্দাপ্রস্তাব প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তবে সেই প্রস্তাবে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন টিআরএফের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
