সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
বাংলা ও বাংলা ভাষাকে অসম্মানের জবাব বাংলা ভাষাতেই দেওয়ার সংকল্প করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কলকাতায় একুশের মঞ্চ থেকে অভিষেকের আহ্বান, ” বাংলায় কথা বললেই যদি জেলে পোরা হয় তাহলে সংসদের চলতি অধিবেশনে আমরা (তৃণমূল কংগ্রেস) সংসদে বাংলাতেই কথা বলব। দেখি আমাদের ক’জনকে জেলে পোরা হয়।”
অভিষেকের সাফ কথা, “বাংলা মেরুদন্ড বিক্রি করে না। গুজরাট দিল্লির বশ্যতা স্বীকার করবে না। বাংলার মানুষকে বাংলার মাটিতে যারা ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাতে চাই। তাদেরকে আমরা ২৬ এর ভোটে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাবো। শূন্য করে ছেড়ে দেব।” পাল্টা হুঁশিয়ারি তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
অভিষেক বলেন,” বিজেপির হাতে দুটি ‘ E ‘ আছে। একটি ইডি, অপরটি ইলেকশন কমিশন। প্রথমটি দিয়ে মানুষকে ভয় দেখিয়ে বসতা শিকার করানোর চেষ্টা করা হয় আর দ্বিতীয়টি দিয়ে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। ইনকাম ট্যাক্স, এমনকি পেগাসাসের মতো নজরদারি সফটওয়্যারও আছে! আমার ফোনেও আঁড়ি পাতা হয়েছে। তবু ওরা বাংলায় হেরেছে। কারণ বাংলার মানুষ আত্মমর্যাদা বিকিয়ে দেয় না।”
কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে অভিষেক অভিযোগ করেন, “আজ দেশে গণতন্ত্র নয়, দমননীতি চলছে। বিরোধীদের ভয় দেখিয়ে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও লাভ হবে না। কারণ তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা আজও রক্ত দিতে প্রস্তুত। প্রয়োজনে নেত্রীরঅনুমতি নিয়ে দিল্লিতেও আন্দোলন হবে।” প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অভিষেক বলেন, “আগে বলতেন ‘জয় শ্রীরাম’। এখন ঠেলায় পড়ে বলছেন ‘জয় মা কালী’, ‘জয় মা দুর্গা’। আমি স্পষ্ট বলছি, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর আপনি বলতে বাধ্য হবেন ‘জয় বাংলা’। ২০২১-এর ‘খেলা হবে’ স্লোগান ছিল রাজনীতির মোড় ঘোরানো মুহূর্ত।
আরও পড়ুন
এদিনের একুশের মঞ্চ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের ঘোষণা, “খেলা তো হয়েই গিয়েছে। এবার বলছি—পদ্মফুল উপড়ে ফেলা হবে।” হুঁশিয়ারির সুরে অভিষেকের মন্তব্য ,“যারা আগুন নিয়ে খেলবে, তারা নিজেরাই পুড়ে যাবে। মাঠে-ময়দানে আমাদের সবাইকে লড়তে হবে। ওরা বলছে, আমাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাবে। কিন্তু আমি বলছি, ২০২৬-এ আমরা ওদেরই পাঠাব—রাজনৈতিক ডিটেনশন ক্যাম্পে।
