সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
SIR নিয়ে যখন রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে তার আগেই নির্বাচন কমিশন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরকে স্বতন্ত্র করার নির্দেশ দিল রাজ্যের মুখ্য সচিবকে।এনিয়ে চিঠি ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে নবান্নে। নবান্নকে নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের।
২০২৬-এর নির্বাচনের আগে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের রাজ্যের ওপর নির্ভরশীলতা যাতে না থাকে তারই উদ্যোগ নিলো নির্বাচন কমিশন।মুখ্যসচিবকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরকে দ্রুত স্বাধীন দফতর হিসেবে ঘোষণা করার নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের। বর্তমানে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের অধীন সিইও দফতর। স্বাধীন হলে রাজ্যের ওপর আর্থিকভাবে এবং নির্বাচনী কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে নির্ভরশীলতা আর থাকবে না মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের। এতে SIR স্বাধীনভাবে পরিচালনা করতে আর বাধা থাকবে না বলে কমিশন সূত্রের খবর।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
পদাধিকার বলে রাজ্যের সিইও একজন অতিরিক্ত মুখ্য সচিব। কিন্তু যে সরকারি দফতরের নিয়ন্ত্রণে এই সিইও দফতর পরিচালিত হয় তিনি একজন প্রধান সচিব পদমর্যাদার। স্বাভাবিকভাবেই এই সরকারি কাঠামোর পরিবর্তন চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। যেহেতু রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের একটি বিভাগের নিয়ন্ত্রণে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অধিকারীদের দফতর তাই তাদের জন্য আর্থিক বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয়। তাই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক-এর দফতরের জন্য পৃথকভাবে বাজেট বরাদ্দ হোক সেটাই চায় নির্বাচন কমিশন।
সর্বোপরি নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার স্বার্থে রাজ্য সরকারের অধীনস্থ কোন বিভাগের দ্বারা রাজ্যের সিইও দফতর পরিচালিত হোক সেটা চায় না নির্বাচন কমিশন। সে কারণেই সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ভাবে এবং স্বাধীনভাবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনে আধিকারিক-এর দফতর যাতে পরিচালিত হয়, সেভাবেই পরিকাঠামো তৈরির নির্দেশ দিয়ে মুখ্য সচিবকে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চিঠি নিয়ে আগামীকাল পর্যালোচনা করবে মুখ্য সচিব সহ নবান্নের উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকরা। তারপরই নির্বাচন কমিশনকে রাজ্যের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে। হঠাৎ করে কেন নির্বাচন কমিশন চাইছে আলাদা করে নির্বাচনী দফতর? যেখানে এতদিন ধরে রাজ্যে স্বরাষ্ট্র দফতরের অধীনেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের কাজ পরিচালনা হয়ে এসেছে। তা বুঝেই সিদ্ধান্ত নিতে চায় নবান্ন।
