চলতি ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজে একাধিকবার উত্তপ্ত হয়েছে পরিবেশ। একাধিকবার বচসায় জড়িয়ে পড়েছেন দুই দলের ক্রিকেটাররা। এর পাশাপাশি আরও যে জিনিসটি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে, তা ডিউক বল। দু’দলেরই অভিযোগ, চলতি সিরিজে খুব তাড়াতাড়ি আকার বিচ্যুতি ঘটছে ডিউক বলের। সেই সঙ্গে নরমও হয়ে যাচ্ছে বলটি। বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় শিবির এতটাই অসন্তুষ্ট যে এ বার তারা দ্বারস্থ হল আইসিসির।
বৃহস্পতিবার থেকে ওভালে শুরু হচ্ছে সিরিজের পঞ্চম তথা অন্তিম টেস্ট। তার আগে ডিউক বল নিয়ে আইসিসিকে নালিশ জানানোর কথা শোনা গেল জনৈক বোর্ডকর্তার মুখে। ঘটনার সূত্রপাত লর্ডস টেস্টে। ম্যাচের দ্বিতীয় দিন আম্পায়ারের সঙ্গে বল নিয়ে তর্কে জড়িয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক শুভমান গিল। তাঁর দাবি ছিল, বল ১০ ওভার পুরনো হতেই বড্ড বেশি নরম হয়ে গিয়েছে। তাই তিনি বলটি বদলানোর আবেদন জানিয়েছিলেন আম্পায়ারকে। সেই আবেদন মঞ্জুর করা হলেও যে বলটি টিম ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয় সেটি আরও বেশি পুরনো।
ক্রিকেটের আইন অনুযায়ী, বল পাল্টাতে হলে বলটি যত পুরনো হবে পাল্টে ঠিক তত পুরনো বলই দেওয়া হবে। কিন্তু হোম অব ক্রিকেটে ভারতীয় দল অভিযোগ জানায়, ১০ ওভারের পুরনো বলের পরিবর্তে যে বল তাদের দেওয়া হয়েছে, সেটি অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ ওভার পুরনো। বিসিসিআইয়ের উক্ত আধিকারিকের গলাতেও শোনা গিয়েছে, একই সুর। তিনি বলেন, “বল পাল্টানোর সময় কত ওভার পুরনো বল দেওয়া হচ্ছে, তা বলা হয় না। ৩০ থেকে ৩৫ ওভারের পুরনো বল দেওয়া হয়েছিল। তাই ম্যাচ রেফারির কাছে অভিযোগ জানিয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু ১০ ওভার পুরনো বলটি দেওয়া হয়নি আর। এর পরেই বোলাররা আর সুইং পায়নি। ইংল্যান্ড সহজে রান তুলেছে।”
বল নিয়ে এই বিতর্কের মাঝেই ম্যানচেস্টার টেস্টের আগে মুখে খুলেছিলেন ব্রিটিশ ক্রিকেট বলসের কর্ণধার দিলীপ জাজোদিয়া। তিনি জানান, “ডিউক বল তৈরির প্রতিটি উপাদানই প্রাকৃতিক। গরুর চামড়া, কর্ক এবং রাবার দিয়ে তৈরি হয় বল। সুতরাং সব সময় এর মান ঠিক রাখা কঠিন। তবু আমরা চেষ্টা করব যাতে বলের মান আরও ভালো করা যায়।” কিন্তু এরপরেও কমেনি বিতর্কের আঁচ। বরং টিম ইন্ডিয়ার আঙুল আম্পায়ারের দিকে।
ভারতীয় দল এবং সেইসঙ্গে উক্ত বোর্ড কর্তার অভিযোগ, ৩০-৩৫ ওভারের পুরনো বলটি পাওয়ার পর যখন গিল ১০ ওভার পুরনো বলটিই ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান, শোনা হয়নি সে আবেদন। পাল্টে দেওয়া বলেই খেলা চালিয়ে যাওয়া হয়। তাই উক্ত বোর্ড কর্তার দাবি, “বলটি ৩০ থেকে ৩৫ ওভার পুরনো হওয়ায় ইংল্যান্ডের পক্ষে রান তোলা সহজ হয়ে গিয়েছিল। তাই এই বিষয়ে অবশ্যই আইসিসির হস্তক্ষেপ প্রয়োজন রয়েছে। তাদের বল সংক্রান্ত নিয়মে অবশ্যই পরিবর্তন আনা উচিত।”
