দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী তথা নিপীড়িত পরিযায়ী শ্রমিকরা রাজ্যে ফিরলেই তাঁদের কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নবান্নে জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পাশাপাশি কর্মশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁদের সহায়তা করতে হবে বলেও বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জীবিকার সন্ধানে বাংলাভাষী যে পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিন রাজ্যে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন, তাঁরা কাজ হারিয়ে রাজ্যে ফিরলে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো রাজ্যের কর্তব্য বলেও জেলাশাসকদের বৈঠকে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে শুধু পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যাই নয়, ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়া নতুন জেলাশাসকদের বৈঠকে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। “জেনুইন ভোটার” যেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়, সে কথা ফের জেলাশাসকদের মনে করিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ডিভিশনের কাজে যে বিএলও-রা নিযুক্ত রয়েছেন, তাঁরা সঠিক পদ্ধতি মেনে কাজ করছেন কি না, সেটাও নজর রাখতে হবে জেলা প্রশাসনকে। পাশাপাশি কোনও জেনুইন ভোটার যদি কোনও সরকারি নথির জন্য প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়, তাহলে প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখে দ্রুত সেই নথি তাঁদের সরবরাহ করারও পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন ‘আমার পাড়া- আমার সমাধান’ প্রকল্প নিয়ে মুখ্যসচিবের সঙ্গে জেলাশাসকদের আলাদা বৈঠক হয় নবান্নে। কীভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে, তা নিয়ে হাই পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন হয়েছে বৈঠকে। বৃহস্পতিবার জরুরি ভিত্তিতে সমস্ত জেলাশাসককে নবান্নতে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দুই অর্ধে বৈঠক হয়। প্রথম দিকের বৈঠকটি নেতৃত্ব দেন মমতা। দ্বিতীয় অর্ধের বৈঠক করেন মুখ্যসচিব। সেখানেই নতুন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া জলস্বপ্ন প্রকল্প নিয়ে জেলাস্তরের কমিটির দ্রুত রূপায়ণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আরও বেশি সতর্কতামূলক প্রচার করতে বলা হয়েছে জেলাশাসকদের। নবান্নের বৈঠক শেষে জেলা শাসকদের নেতাজি ইন্ডোরে দুর্গাপুজোর সমন্বয় বৈঠকে নিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী।
