শ্রাবণ মাস হিন্দু ধর্মের মতে ভগবান শিবের অত্যন্ত প্রিয় মাস। এই সময় ভক্তরা নিষ্ঠার সঙ্গে শিবের পূজা করেন, উপবাস রাখেন, শিবলিঙ্গে জল, দুধ, বেলপাতা সহ নানা প্রিয় জিনিস নিবেদন করেন। বিশ্বাস করা হয়, শ্রাবণে ভগবান শিবের পূজা করলে সমস্ত ইচ্ছা পূর্ণ হয় এবং জীবনে আসে শান্তি ও সমৃদ্ধি।
তবে অনেকেই এই পবিত্র মাসে ঘরে শিবের ছবি রাখার ইচ্ছে প্রকাশ করেন, যাতে তাঁর আশীর্বাদ সর্বদা বজায় থাকে। কিন্তু বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, শিবের ছবি ঘরে রাখারও কিছু নিয়ম আছে। এই নিয়ম না মেনে ভুল ছবি রাখলে ঘরে অশান্তি, বাধা-বিপত্তি এমনকী আর্থিক ক্ষতিও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিবের তাণ্ডব রূপ বা অঘোর রূপের ছবি কখনই ঘরে রাখা উচিত নয়। এই ধরনের ছবি ঘরে নেতিবাচক শক্তি আনতে পারে এবং বাস্তু দোষের সৃষ্টি করে। এর ফলে জীবনে নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তাছাড়াও বাড়ির প্রধান প্রবেশপথে ভগবান শিবের কোনও ছবি বা মূর্তি রাখা একেবারেই নিষিদ্ধ।
শান্তিময় পরিবেশ বজায় রাখতে চাইলে ধ্যানমগ্ন শিব, কৈলাস পর্বতে পার্বতী ও পরিবারের সঙ্গে বসে থাকা শিব, বা করুণাময় মুখাবয়বের ছবি রাখাই শুভ। এই ধরনের ছবি ঘরে পজিটিভ এনার্জি আনে এবং মনকে শান্ত করে। বিশেষত, শিব-পার্বতীর পারিবারিক ছবি সুখ ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, শিবের ছবি কখনওই শোবার ঘরে, রান্নাঘরের আশপাশে অথবা বাথরুমের সামনে রাখা উচিত নয়। এসব স্থান দেবতাদের ছবি রাখার জন্য অনুপযুক্ত এবং এর ফলে আশীর্বাদের বদলে অমঙ্গল ঘটতে পারে।
এছাড়াও, খুব ছোট আকারের ছবি বা মূর্তির বদলে একটু বড় এবং স্পষ্ট ছবি রাখা উচিত। বড় ছবি ঘরের পরিবেশে আরও বেশি শুভ প্রভাব ফেলে এবং বাস্তু অনুযায়ী ফলদায়ক হয়।
সবশেষে বলা যায়, শ্রাবণ মাসে শিবের পূজার পাশাপাশি ঘরে সঠিকভাবে তাঁর ছবি রাখাটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তু মেনে এবং ভাবনাচিন্তা করে উপযুক্ত শিবের ছবি রাখলে জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও শুভ শক্তির আবাহন হয়। তাই কোনও ভুল না করে, শিবের আশীর্বাদ পেতে নিয়ম মেনে তাঁর ছবি ঘরে স্থাপন করুন।
