৭১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণা হয়েছে ১ অগাস্ট। বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের ভক্তদের কাছে এটি ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, কারণ ‘জওয়ান’ ছবির জন্য এই প্রথম জাতীয় পুরস্কার জিতলেন কিং খান — ৩৩ বছরের কেরিয়ারে প্রথম সেরা অভিনেতার সম্মান পেলেন তিনি। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। অভিনেত্রী ঊর্বশী, যিনি ‘উল্লোজুক্কু’ ছবির জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার জিতেছেন, তিনি পুরস্কার নির্বাচনের মানদণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন।
এশিয়ানেট নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উর্বশী বলেন, “বিজয়রাঘবন একজন অসাধারণ অভিনেতা। বিচারকমণ্ডলী কোন ভিত্তিতে বিজয়রাঘবন আর শাহরুখ খানের অভিনয়কে আলাদা করলেন? একজন কীভাবে পার্শ্বচরিত্র, আর অন্যজন সেরা অভিনেতা হন? কোন মাপকাঠিতে? এই প্রশ্ন তোলা উচিত, কারণ আমরাও এই দেশের করদাতা। কুটেট্টান (বিজয়ারাঘবনের ডাকনাম) তো বহু দশকের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অভিনেতা। ওঁর সিনেমা কোনও ২৫০ দিনের বড় বাজেটের মেগা প্রজেক্ট ছিল না, তবুও ওঁর পারফরম্যান্স অনন্য।”
ঊর্বশী আরও বলেন, “আমি প্রথমে ‘পুক্কালাম’ ছবিতে ওঁর বিপরীতে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলাম। কিন্তু চরিত্র অনুযায়ী আমাকে অনেকটা শারীরিক রূপান্তর করতে হতো, মেকআপে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হতো — আমি স্পষ্ট বলি, তোমরা কোটি টাকাও দিলেও করব না। কিন্তু ওঁর বয়সে, উনি এই শারীরিক কষ্ট মেনেই অভিনয় করেছেন। শুধু এটুকুই তো স্পেশাল মেনশন পাওয়ার মতো ছিল। ওঁকে শুধু পার্শ্বচরিত্রে রাখা হয়েছে — কোন ভিত্তিতে? আমি শুধু ন্যায়বিচার চাইছি।”
উল্লেখ্য, শাহরুখ খান ‘জওয়ান’-এর জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার ভাগ করে নিয়েছেন বিক্রান্ত মাসির সঙ্গে, যিনি ‘টুয়েলভথ ফেল’-এ দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন। অন্যদিকে বিজয়রাঘবন, মালয়লম ছবি ‘পুক্কালাম’-এ একশো বছরের বৃদ্ধের ভূমিকায় অভিনয় করে সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় পুরস্কার জিতেছেন। এই ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন কেপিএসি লীলা।
ঊর্বশী নিজেও দক্ষিণ ভারতের অন্যতম শ্রদ্ধেয় অভিনেত্রী। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ৭০০-র বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে মালয়লম, তামিল, তেলুগু, কন্নড় এবং হিন্দি ছবি। মাত্র ১০ বছর বয়সে শিশু শিল্পী হিসেবে কেরিয়ার শুরু করেন তিনি। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ২টি জাতীয় পুরস্কার, ৬টি কেরল স্টেট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড, এবং ২টি তামিলনাড়ু স্টেট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবিগুলির মধ্যে রয়েছে ‘কঝাকম’, ‘অচুভিন্তে অমমা’, এবং ‘চার্লস এন্টারপ্রাইজেস’।
