রাশিয়া থেকে তেল কেনার অভিযোগ তুলে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর উচ্চ হারে শুল্ক চাপানোর জন্য কার্যত উঠেপড়ে লেগেছেন। একে মোটেই ভাল চোখে দেখছেন না তাঁরই দলের নেত্রী নিকি হ্যালি। রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিছুটা হুঁশিয়ারির সুরেই বলেছেন , একই ইস্যুতে প্রতিপক্ষ চিনকে যখন ছাড় দেওয়া হচ্ছে তখন বন্ধু দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করাটা মেনে নেওয়া যায় না।
সম্প্রতি CNBC-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন যে ভারত আসলে রাশিয়া থেকে তেল কিনে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে জ্বালানি জোগাচ্ছে। সেই কারণেই তিনি ভারতের পণ্যের উপর শুল্ক আরও অনেকটা বাড়াতে চান। পাশাপাশি ট্রাম্পের আরও দাবি ভারতের শুল্কহার বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। ট্রাম্পের অভিযোগ, ভারত আমেরিকা থেকে বিপুল কিছু আমদানি করে না অথচ প্রচুর রফতানি করে। এক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ভারত শুল্ক শূন্য করার প্রস্তাব দিলেও যুদ্ধের অর্থ জোগানোর কারণে এখন সেটা সহ্য করা হবে না।
ট্রাম্প এমন অভিযোগ করলেও চিনের সঙ্গে তুলনা টেনে তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিকি হ্যালি। এক্স-এ পোস্ট করে হ্যালি লিখেছেন, ‘রাশিয়া থেকে তেল কেনা ভারতের বন্ধ করা উচিত — কিন্তু চিন যে রাশিয়া ও ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা, তাদের ক্ষেত্রে ৯০ দিনের শুল্ক বিরতি দেওয়া হয়েছে। এটা দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিছু নয়।’ তাঁর স্পষ্ট বার্তা, চিনের ক্ষেত্রে ছাড় দেবেন আর ভারতের মতো শক্তিশালী বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করবেন – এটা হতে পারে না।
প্রেসিডেন্ট পদের ক্ষমতায় বসে ট্রাম্প একার সিদ্ধান্তে যা করে চলেছেন তা মার্কিন জনগণ তো বটেই তাঁর দলেরই অনেকে পছন্দ করছেন না বলেই খবর। নিকি হ্যালির এই মন্তব্যে স্পষ্ট, রিপাবলিকান দলের ভিতরেও ট্রাম্পের ভারত নিয়ে এই হুমকির বিরুদ্ধে চর্চা বাড়ছে। বিশ্বমঞ্চে চিনের দাপট রুখতে নিকি হ্যালি অনেক দিন ধরেই ভারত-মার্কিন সম্পর্ক জোরদার করার পক্ষে সওয়াল করে এসেছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।
