নির্বাচন কমিশনের তলবে আগামিকাল সকালেই দিল্লি রওনা হচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। কমিশনের নির্দেশে আগামিকাল বিকেল পাঁচটায় নির্বাচন সদনে কার্যকরী রিপোর্ট সহ হাজিরা দেওয়ার কথা তাঁর। নবান্ন সূত্রে খবর, কমিশনের নির্দেশ হাতে পেয়েই মুখ্যসচিব তার ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন যে তিনি কমিশনে যথা সময় যাবেন এবং পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেবেন। ইতিমধ্যেই মুখ্যসচিব কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে ভোটার তালিকায় অস্তিত্বহীন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার কারণে যে চার সরকারি আধিকারিক এবং একজন ক্যাজুয়াল কর্মীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করার সুপারিশ করেছে তা নিয়ে অন্তর্বর্তী তদন্ত চালাচ্ছে রাজ্য প্রশাসন। ইতিমধ্যেই একজন সরকারি আধিকারিক এবং অভিযুক্ত ক্যাজুয়াল কর্মীকে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাকিদের বিরুদ্ধে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর এখানেই উঠছে প্রশ্ন। নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে তথ্য প্রমাণ সহ এবং অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তি সহ যে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা রাজ্য প্রশাসনকে সুপারিশ করেছে তারপরেও রাজ্য প্রশাসন নতুন করে তদন্ত করতে চাইছে কেন? সোমবার বিকেলের পর রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের এক পদস্থ আধিকারিকের নেতৃত্বে এই সংক্রান্ত তদন্তের জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। তার উপর গতকাল মুখ্যসচিব নির্বাচন কমিশনকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কার্যকর রিপোর্ট সংক্রান্ত যে উত্তর দিয়েছেন সেখানে তিনি এই অভিযোগের সারবত্তা নিয়ে প্রকারান্তরে প্রশ্ন তুলেছেন এবং তা পুনরায় খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলেও মনে করছেন। একইসঙ্গে জেলাস্তরে কাজ করা সরকারি আধিকারিকদের একদিকে প্রশাসনিক কাজের চাপ অন্যদিকে ভোটার তালিকা তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের চাপ সামলাতে গিয়ে অদস্তন কর্মীদের উপর নির্ভরতার পক্ষে সওয়াল করে মুখ্যসচিব অভিযুক্তদের হয়ে সাফাই দিয়েছেন বলে মনে করছেন কমিশনের পদাধিকারীরা। এই পরিস্থিতিতে বুধবার দিল্লিতে নির্বাচন সদনে হাজির হয়ে মুখ্যসচিব কী ব্যাখ্যা দেবেন তা নিয়েই আগ্রহ তুঙ্গে।
নির্বাচন কমিশনের পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, একটি সাংবিধানিক সংস্থা যখন সাংবিধানিক অধিকারের ভিত্তিতে সামগ্রিক তদন্ত করে তথ্য-প্রমাণ সহ নির্বাচন কমিশনের কাছে রিপোর্ট পাঠানোর পর কমিশন রাজ্যের মুখ্যসচিবকে যখন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করার সুপারিশ করেছেন সেখানে পাল্টা তদন্তের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই। শুধু তাই নয়, বিষয়টির গুরুত্ব বুঝেই নির্বাচন কমিশন শুধুমাত্র শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য পদক্ষেপ অথবা এফ আই আর করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, সরাসরি চার সরকারি আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে। চার সরকারি আধিকারিকের সার্ভিস রেকর্ডে কালো দাগ লাগার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। অন্য ক্ষেত্রে রাজ্য প্রশাসন কম গুরুত্বের শাস্তি দিলেও সাসপেনশনের ক্ষেত্রে তাদের কিছু করার থাকে না। কারণ একটি সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কাজে কোনও সরকারি কর্মী যদি সাসপেন্ড হন তাহলে তার সার্ভিস বুকে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আর সেই জায়গা থেকেই রাজ্য প্রশাসন এই চার সরকারি আধিকারিককে বাঁচানোর চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন কমিশনের পদস্থ কর্তারা। সে ক্ষেত্রে বুধবার দিল্লি নির্বাচন সদনে কমিশনের সুপারিশ মোতাবেক শাস্তিমূলক পদক্ষেপ কার্যকর না করলে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশন পদক্ষেপ করে তা নিয়েই এখন চর্চা শুরু হয়েছে।
