‘দ্য ওয়্যার’-এর সম্পাদক সিদ্ধার্থ বরদারাজনের স্বস্তি। সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার নির্দেশ দিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে অসম পুলিশের দায়ের করা এফআইআরের প্রেক্ষিতে কোনও ব্যবস্থামূলক পদক্ষেপ করা যাবে না। এই এফআইআরটি ভারতের সংবিধান ও অখণ্ডতা বিপন্ন করার অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ১৫২ অনুসারে দায়ের করা হয়।
বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ এই মামলায় কেন্দ্র সরকার ও অসম সরকারকে নোটিশ জারি করেছে। পাশাপাশি, মামলায় চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৫২ ধারা-র সাংবিধানিক বৈধতাকেও, যেটিকে বলা হচ্ছে ভারতীয় দণ্ডবিধির পুরনো দেশদ্রোহিতা আইনের ১২৪(এ)-র বিকল্প।
আদালত জানিয়েছে, “নোটিস জারি করা হল। ইতিমধ্যে, পিটিশনকারী ফাউন্ডেশনের যে সব সদস্যের বিরুদ্ধে ১১.৭.২০২৪-এ এফআইআর হয়েছে, তাঁরা প্রয়োজনে তদন্তে যোগ দিতে পারেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না।”
আবেদনকারীর পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে, ধারা ১৫২-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি অনুরূপ মামলা ইতিমধ্যে বিচারাধীন, এবং সেই মামলাতেও নোটিস জারি করেছেন প্রধান বিচারপতি। এই কারণে, বর্তমান মামলাটিকে ওই মামলার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধার্থ বরদারাজন এবং তাঁর সংবাদ মাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’-এর বিরুদ্ধে এই এফআইআরটি দায়ের হয়েছে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের প্রেক্ষিতে, যেখানে অপারেশন সিঁদুর-এ ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমানের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ভারতের ডিফেন্স অ্যাটাশে-র বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একজন ব্যক্তি, যিনি অসমের শাসকদলের সদস্য এবং পদাধিকারী, পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগটি তাঁদের কাছে পৌঁছেছে এবং পুলিশ হঠাৎ গ্রেফতারের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন তথ্যও মামলাকারীরা পেয়েছেন।
প্রতিবেদনে যে বক্তব্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে, তা ইন্দোনেশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারে ভারতীয় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বক্তব্যের প্রতিফলন। এই সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ভারতের ডিফেন্স অ্যাটাশে-ও।
পিটিশনে আরও বলা হয়েছে, “দ্য ওয়্যার প্রতিবেদনটির সাম্প্রতিক সংস্করণে ভারতীয় দূতাবাসের বক্তব্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সেমিনার ও বক্তব্য দেশের শীর্ষস্থানীয় বহু সংবাদমাধ্যমেও প্রচারিত হয়েছে, যেমন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হিন্দুস্তান টাইমস, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ফ্রন্টলাইন, ইন্ডিয়া টুডে ইত্যাদি।”
পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, যেহেতু অভিযোগকারী শাসক দলের সদস্য, তাই এই মামলার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এফআইআরের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে দমন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি।
এছাড়াও বলা হয়েছে, “প্রতিবেদনে কোনও ভুল বা মিথ্যা তথ্য ছিল না, বরং সরকারের পক্ষের বক্তব্য পূর্ণরূপে তুলে ধরা হয়েছে।”
পিটিশনকারীদের দাবি, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ১৫২ মূলত ভারতীয় দণ্ডবিধির দেশদ্রোহিতা সংক্রান্ত ধারা ১২৪(এ)-র পুনরাবৃত্তি, যেটিকে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট স্থগিত রেখেছে।
কিন্তু সেই অন্তর্বর্তী আদেশকে উপেক্ষা করে এই নতুন ধারা ব্যবহার করে সংবাদমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে দমন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, “ধারা ১৫২ প্রযোজ্য তখনই, যখন সত্যিই দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা হুমকির মুখে পড়ে। এই ধরনের রিপোর্ট বা অনুষ্ঠান সাংবাদিকেরা প্রায়ই করে থাকেন, এর জন্য হেফাজতে রেখে তদন্তের প্রয়োজন নেই।”
শেষপর্যন্ত আদালত পিটিশনকারীদের অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়েছে এবং মামলাটিকে চলতে থাকা ধারা ১৫২ চ্যালেঞ্জের মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।

