যারা দেশের নাগরিক নয় তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই পদক্ষেপ করা উচিত। কিন্তু শুধু বাংলা বললেই সমস্যায় পড়তে হবে সেটা যেন না হয়। কন্যাশ্রী দিবসের অনুষ্ঠানেও বাংলা ভাষা বিদ্বেষের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কন্যাশ্রীদের মমতার বার্তা ” মাতৃভাষাকে ভুলবেন না। মাটিকে ভুলবেন না। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে দেশের সবথেকে বেশি যাদের অবদান ছিল তারা এই বাংলার। বাংলা না থাকলে আমরা স্বাধীনতা পেতাম না। দেশে যখন স্বাধীন সরকার শপথ নিচ্ছে তখন গান্ধীজি বাংলাতে ছিলেন। যারা এক কাপড়ে সবকিছু ফেলে দিয়ে চলে এসেছিল উদ্বাস্তু হয়ে তারাও তো দেশের নাগরিক হিসেবে গণ্য হয়েছে।” এদিন কলকাতার আলিপুরে ধনধান্য অডিটোরিয়ামে কন্যাশ্রী প্রকল্পের ১২ বছরে পদার্পণের অনুষ্ঠানে কন্যাশ্রী প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংকীর্ণতা নয়, ভেদাভেদ নয়, সবাই মাথা উঁচু করে এগিয়ে যান।
বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য আমাদের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি। একমাত্র কন্যাশ্রীরাই বলতে পারে আমরা একত্রিতভাবে আছি। সকলের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা “বিশ্বের মুকুট আপনারা মাথায় পরুন। এ মাটি সোনার মাটি। শুধু বিশ্বের সেরা নয়, সভ্যতার সূর্য হল বাংলা।”
এদিন কন্যাশ্রীর অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি মাসের শেষেই সবুজসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে ১২ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীকে সাইকেল দেওয়া হবে। তিনি জানান, ১ কোটি ৩৮ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীকে সবুজসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই সাইকেল দেওয়া হয়েছে। আগে কন্যাশ্রী ছিল শুধুমাত্র স্কুলে। স্কুলের পরেই অনেকের বিয়ে দেওয়ার তাড়া থাকে। তাই কলেজ বা ইউনিভার্সিটি স্তরেও কন্যাশ্রী প্রকল্পের উপযোগিতা রয়েছে এটা বুঝে কলেজ স্তরে কন্যাশ্রী ২ চালু করা হয়েছে এবং তারও পরে দশ লক্ষ টাকার স্মার্ট কার্ড আছে বলেও জানান তিনি।
এদিন কন্যাশ্রীদের সামনে পেয়ে কন্যাশ্রী প্রকল্পের বিশ্বজোড়া স্বীকৃতির কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। “আমার খুব গর্ব হচ্ছিল সেই দিন, যেদিন ইউনাইটেড নেশন-এর ফোরামে দাঁড়িয়েছিলাম নেদারল্যান্ডে। ৬০০-র বেশি প্রকল্প সেখানে এসেছিল। তার মধ্য থেকে প্রথম নাম ঘোষণা হল কন্যাশ্রী। আমার এখনও গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। মেয়েরা কী না করতে পারে!” মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ২০১১ সালে প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে মেয়েদের ড্রপ আউট রেট ছিল পৌনে পাঁচ শতাংশ। এখন সেটা শূন্য। মধ্যশিক্ষা ক্ষেত্রে ২০১১ সালে মেয়েদের ড্রপ আউট রেট এখন আরও কমে গিয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ১৫ শতাংশের বেশি ছিল ড্রপ আউট রেট। এখন তা যথেষ্ট কমে এসেছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক কারণ মেয়েদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে যে একটা বড় প্রতিবন্ধকতা, তা অস্বীকার করেননি মুখ্যমন্ত্রী। তবুও বিয়ে দেওয়ার আগে পড়াশোনা করিয়ে মেয়েদের আত্ননির্ভর করার গুরুত্ব কতটা তাও অভিভাবকদের বুঝিয়ে বলেন রাজ্যের অভিভবক। নিজের অতীত স্মরণ করে মমতার মন্তব্য,
“বাবা মারা যাওয়ার পরে আমার গলার একটা হার বিক্রি করে কলেজে ভর্তি হতে হয়েছিল। যে কষ্ট আমরা পেয়েছি তা যেন এখনকার সমাজ না পায়। বাবা মায়েদের অনুরোধ করব মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেবেন না। আগে ওদের নিজেদের আত্মনির্ভর করতে দিন। মেয়েরা সংসার যেমন চালায় তেমন দেশ চালায়। পারি না বলে কোনও কথা মেয়েদের অভিধানে নেই।” পরিশেষে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথাও উল্লেখ করতে ভোলেননি মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের উদ্যোগে কন্যাশ্রী, সবুজসাথী সহ শিক্ষায় উৎকর্ষতার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন প্রকল্প চালু থাকলেও গবেষকদের গবেষণার জন্য ইউজিসি সব টাকা বন্ধ করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা।
