জম্মু-কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদনের শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে।বৃহস্পতিবার এই মামলায় উঠে এল পহেলগামের বৈসরনে হওয়া জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ।এদিন সুপ্রিম কোর্ট জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা ফেরানো নিয়ে কেন্দ্রকে নোটিস দিয়ে আট সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে।পাশাপাশি আদালতের পর্যবেক্ষণ পহেলগামের সন্ত্রাসী হামলা এবং তার জেরে তৈরি হওয়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করে করা সম্ভব নয়।
২০১৯ সালের আগস্টে জম্মু-কাশ্মীরকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে ভাগ করা হয়। সেই সময়েই রাজ্যকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়।এরপর নির্দিষ্ট সময়সীমা না জানালেও কেন্দ্র সরকার বারবার জানায় ‘উপযুক্ত সময়ে’ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।এরপর ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে ২০১৪-র পর প্রথম বিধানসভা নির্বাচন করার নির্দেশ দেয়।
২০২৪-এর ওই নির্বাচনে ওমর আবদুল্লাহ নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল কনফারেন্স ৪২টি আসনের মধ্যে ২৭টি জিতে সরকার গঠন করে। এরপর ফের রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর দাবি ওঠে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ রাজনৈতিক দলগুলির কাছে চিঠি লিখে বলেন, রাজ্যের মর্যাদা পুনঃস্থাপন কোনও ‘দয়া’ নয়, একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। রাজ্যের মর্যাদা হ্রাস করার নজির ভবিষ্যতে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর মামলারই শুনানি চলছিল, যেখানে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে।সেই নির্দেশে বলা হয়েছিল, বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে।এই শুনানির সময়েই উঠে আসে পহেলগামের জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ।প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ জানায়, জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি, বিশেষ করে পহেলগাঁও-এ ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলার মতো ঘটনা উপেক্ষা করা যাবে না।
Leave a comment
Leave a comment
