স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণেও উঠল অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে দেশবাসীকে অনুপ্রবেশের বিপদ থেকে রক্ষা করতে এক নতুন জনসংখ্যা মিশন ঘোষণা করলেন।
এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যা বিন্যাস বা গঠন বদলানোর চেষ্টা চলছে। এক পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে দেশের বিরুদ্ধে। যা বাস্তবায়িত হলে দেশ এক ভয়ঙ্কর বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে।
এদিন প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে অনুপ্রবেশ নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা শোনান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশবাসীর জেনে রাখা উচিত, এক পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ডেমোগ্রাফি বা জনবিন্যাস বদলানোর চেষ্টা চলছে। আমাদের বোন ও মেয়েদের নিশানা করা হচ্ছে। যুব সমাজের রুটিরুজি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। জনজাতি ও দলিতদের ভুল পথে চালিত করে তাঁদের জমি দখল করা হচ্ছে। কিন্তু তাঁর সরকার কোনওভাবেই এসব বরদাস্ত করবে না।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, সীমান্ত অঞ্চলে জনসংখ্যার বিন্যাস বদল জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উদ্বেগের। এটা হিংসা ও সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করে। কিন্তু কোনও দেশের সরকারই অনুপ্রবেশকারীদের সামনে মাথা নোয়ায় না। তাঁর সরকারও অনুপ্রবেশকারীদের সামনে মাথা নত করবে না। এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে তাঁর সরকার একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন জনসংখ্যা মিশন শুরু করবে। যা দেশের সামনে আসা এই বিপদের মোকাবিলা করতে সক্ষম।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, জাতীয় নিরাপত্তাকে আরও সুরক্ষিত ও নিরাপদ রাখতেই প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেছেন। সম্প্রতি অনুপ্রবেশের বিষয়টি দেশের কাছে একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে বহু বাংলাদেশি এদেশে ঢুকে পড়ছে বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষীদের, অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি তকমা দিয়ে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর এদিনের মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
