ভারতের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকা তৈরীর পদ্ধতি হল একটি বহুস্তরীয় বিকেন্দ্রীকৃত ব্যবস্থা যা আইনি বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সে ক্ষেত্রে ভোটার তালিকায় কোনও ত্রুটি বিচ্যুতি বা ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধনের যথাযথ পদ্ধতি ও নিয়ম রয়েছে। ভোটার তালিকার কাজে যুক্ত থাকা রাজনৈতিক প্রতিনিধি বা রাজনৈতিক দলগুলো যদি সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতি মেনে ভোটার তালিকার ত্রুটি বিচ্যুতিগুলো সংশোধনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাহলে দেশে নির্ভুল ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করা সম্ভব। রবিবার বিহারে ‘ ভোটার অধিকার যাত্রা ‘ শুরু করছেন রাহুল গান্ধী সহ বিরোধী দলের নেতৃত্বরা। আবার একই দিনে রাহুল গান্ধীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাংবাদিক সম্মেলন করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এই পরিস্থিতিতে শনিবার একটি বিশেষ বিবৃতি দিয়ে ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলির
সময়জ্ঞান এবং নিয়মানুবর্তিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল নির্বাচন কমিশন।
কমিশনের মতে, মূলত ভোটার তালিকা তৈরির দায়িত্ব বা দায়বদ্ধতা থাকে সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের সরকারি কর্মী বা ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ইআরও এবং তাঁর অধীনে থাকা বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-দের উপরে। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর সমস্ত রাজনৈতিক দল বা তাদের প্রতিনিধির হাতে তা তুলে দেওয়া হয়। সর্বসাধারণের জন্য কমিশনের ওয়েবসাইটে তা প্রকাশিত হয়। কোনরকম ত্রুটি বিচ্যুতি বা অভিযোগ থাকলে তা জানানোর জন্য একমাস সময় দেওয়া হয়। তারপর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়।
লোকসভা হোক বা বিধানসভা সাধারণ নির্বাচন, খসড়া ভোটার তালিকা তৈরির পর ‘ ক্লেমস এন্ড অবজেকশন ‘ পর্বে এক মাস সময় পাওয়া যায়। তারপর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরি হয়। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেও দুটি স্তরে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য আবেদন জানানো যেতে পারে। জেলাস্তরে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা জেলাশাসকের কাছে এবং রাজ্যস্তরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা সিইও-র কাছে। হঠাৎ ভোটার তালিকায় যদি কোনও ভুল বা ত্রুটি বিচ্যুতি থাকে তার জন্য শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের দিকে আঙ্গুল তোলা উচিত নয় একথায় বোঝাতে চেয়েছে কমিশন। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দায় বা দায়িত্বও থেকে যায়, বিবৃতি দিয়ে একথাই বলতে চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি অথবা বুথ লেভেল এজেন্ট যারা থাকেন তাদের হাতে খসড়া ভোটার তালিকা প্রতিলিপি তুলে দেওয়া হলেও তারা যথাযথ সময় তা দেখেন না। সে কারণেই যথাযথ সময়ের মধ্যে ভোটার তালিকা নিয়ে কোন অভিযোগ থাকলে সেই অভিযোগ তারা যথাযথ নির্বাচন কর্মীদের কাছে তুলে ধরেন না। অথচ ভোট পর্ব শেষ হলে ফলাফলের নিরিখে নির্বাচন কমিশনের দিকে আঙুল তোলেন। পরিশেষে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকার ত্রুটি সংশোধনে প্রতিটি রাজনৈতিক দল এমনকি প্রতিটি ভোটারকে স্বাগত জানায় নির্বাচন কমিশন। কারণ নির্ভুল ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকায় ভারতের এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সফল করতে পারে।
বলা বাহুল্য, মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছিলেন রাহুল গান্ধী। এরপর বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন নিয়েও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাহুল গান্ধী ও বিরোধীপক্ষের নেতাদের সংঘাত চরমে উঠেছে।
