ডার্বি হেরে চূড়ান্ত অসভ্যতা জেসন কামিংসের। মোহনবাগানের বিদেশি ফুটবলার মধ্যমা (হাতের মাঝের আঙুল) দেখালেন উৎসবে মেতে থাকা লাল হলুদের সদস্য সমর্থকদের। ম্যাচ শেষে যুবভারতীত থেকে টিমবাসে করে ফেরার পথেই এই অপকর্মটি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে খেলা স্ট্রাইকার। বেপরোয়া কামিংসের মধ্যমা দেখানোর ছবি ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দার বন্যা বয়েছে সমাজ মাধ্যমে।
১৩৪ তম ডুরান্ড ফুটবলের ডার্বি ম্যাচ। যেখানে মুখোমুখি কলকাতারই দুই প্রধান। স্বভাবতই সদস্য-সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ থাকে গগনচুম্বি। ময়দানে বছর দুয়েরও বেশি কাটিয়ে দেওয়ার সুবাদে এটি ভালই জানেন পেশাদার অজি ফুটবলার। তা সত্বেও ম্যাচ হেরে মেজাজকে বশে রাখতে পারেননি। তাই “জয় ইস্টবেঙ্গল” স্লোগান তাঁর বুকে যেন শেল হয়ে বিঁধেছে। আর সেই রক্তাক্ত ক্ষতে প্রলেপ দিতেই বুঝি “মধ্যমা প্রদর্শন”।
কলকাতার খেলাপাগল জনগণ এর আগেও এমন অসভ্যতার সাক্ষী থেকেছে। ২০০৫ সালে ইডেনে মধ্যমা দেখিয়ে নিন্দা কুড়িয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার-কোচ গ্রেগ চ্যাপেল। ফুটবলার জেসন কামিংস উত্তরসূরি ক্রিকেটারের সেই দেশজ অপসংস্কৃতি ফের ফিরিয়েছেন। পেশাদার খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারে এমন কালো দাগ সারাজীবনই বয়ে বেড়াতে হয়। ফুটবলার জেসন কামিংস কালো তালিকায় নয়া সংযোজন।
রবিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ৯০ মিনিটের ফুটবলে রীতিমতো ফ্লপ মোহনবাগানের তারকা ফুটবলাররা। ম্যাচের প্রথমার্ধে সবুজ-মেরুণ বিগ্রেডকে সেভাবে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। প্রত্যেকেরই ছিল গা ছাড়া মনোভাব। দ্বিতীয়ার্ধে ২ গোলে পিছিয়ে পড়ে একটু তেড়েফুঁড়ে ফেরার চেষ্টা চালিয়েছে ধারে ও ভারে প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে এগিয়ে থাকা দলটি। কিন্তু খেই হারিয়েছে বিপক্ষের কড়া ম্যান মার্কিং আর আঁটোসাটো ডিফেন্সের কাছে। স্ট্রাইকারের ভূমিকায় থাকা কামিংসের বলার মতো কোনও মুভ বা শটও দেখা যায়নি ডার্বি ম্যাচে। রেফারির লম্বা বাঁশিতে খেলা শেষ হতে মুখ লুকিয়ে সাজঘরে ফিরতে হয়েছে কামিংসদের মতো সবুজ মেরুণের বিদেশি তারকাদের।
ডুরান্ড ফুটবলের পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায় ইস্টবেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ১৬ বার। আর মোহনবাগান খেতাব জিতেছে ১৭ বার। স্বভাবতই ডার্বি জেতা লাল হলুদ ব্রিগেডের রয়েছে কাপ জয়ের পরিসংখ্যানে মোহনবাগানকে ছুঁয়ে ফেলার সুযোগ। চলতি টুর্নামেন্টে আর ২ টি ধাপ পেরোতে পারলেই তখন শুরু হবে সমানে-সমানে টক্কর।
