মহারাষ্ট্রে বিজেপিকে কার্যত বিপাকে ফেললেন দলেরই বিধান পরিষদের সদস্য সদাভাউ খোট। মহারাষ্ট্রের এই কৃষক নেতা রাজ্য রাজনীতিতে যথেষ্ট পরিচিত মুখ। সদাভাউ অভিযোগ করেছেন, মহারাষ্ট্রে অ্যানিম্যাল প্রটেকশন ( অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট ২০১৫, কৃষক স্বার্থ বিরোধী। এই আইন সাধারণ কৃষকদের কাছে এক বিপুল আর্থিক বোঝা। কারণ ওই আইন অনুযায়ী, বয়স্ক, অসুস্থ ও অথর্ব হয়ে পড়া গরুকে আমৃত্যু লালনপালন করতে হয় কৃষকদের। একজন কৃষকনেতা হিসেবে আমি কৃষকদের সমস্যার বিষয়টি বুঝি। সকলেই জানে একটা সময়ের পর গরু বা মোষ আর চাষের কাজ করার মতো অবস্থায় থাকে না। তাই তাদের বিক্রি করে দেওয়া জরুরি। বর্তমান আইনে সেটা না হওয়ায় কৃষকদের নাভিশ্বাস উঠছে।
সদাভাউয়ের এই মন্তব্যে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকার।
মহারাষ্ট্রে অ্যানিম্যাল প্রটেকশন ( অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট অনুযায়ী মহারাষ্ট্রে গবাদি পশু হত্যা ও খাওয়ার উদ্দেশ্যে বিক্রি নিষিদ্ধ। সেই আইনকেই কৃষক বিরোধী বলে দাবি করলেন দলের বিধান পরিষদের এই কৃষক নেতা। কৃষক বিরোধী ওই আইন অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন সদাভাউ। বিজেপি বিধায়ক যখন এই মন্তব্য করছেন তার কয়েকদিন আগেই রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ার রাজ্যের পুলিশকর্তাদের ডেকে স্বঘোষিত গোরক্ষক বাহিনীর দাপট অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশকর্তাদের সরাসরি এভাবে নির্দেশ দেওয়ায় মহারাষ্ট্র বিজেপির শীর্ষ নেতারাও কিছুটা বিরক্ত। বিষয়টি মন্ত্রিসভায় আলোচনা না করে বা মুখ্যমন্ত্রীকে না জানিয়ে কেন সরাসরি পুলিশকে নির্দেশ দিলেন তা নিয়ে বিতর্ক বেঁধেছে।
উল্লেখ্য, ওই আইন যখন তৈরি হয় সে সময় বিরোধী আসনে ছিল এনসিপি। সেই আইনের তারা বিরোধিতাও করেছিল। শুধু রাজনৈতিক নেতারা নয়, স্বঘোষিত গোরক্ষক বাহিনীর দাপটে বিরক্ত আমজনতাও।
