ক্রমশ সবকিছু আসছে প্রকাশ্যে।রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর টেলিফোনে জেলেনস্কিকে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরানোর কথা বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।এবার হোয়াইট হাউসে বৈঠকের আগে তাঁর দাবি , ইউক্রেন চাইলে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ “অবিলম্বে শেষ করতে পারে।”অর্থাৎ নির্যাস এটাই যে যুদ্ধ থামানোর বল এখন জেলেনস্কির কোর্টে।
তবে এরপরেই আসল তাসটি খেলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।তিনি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, “ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি চাইলে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই শেষ করতে পারেন, অথবা তিনি লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন। মনে রাখুন, কিভাবে সবকিছু শুরু হয়েছিল। ওবামা কোনও লড়াই ছাড়াই ১২ বছর আগে ক্রিমিয়া দিয়ে দিয়েছিলেন! আর ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের প্রশ্নই ওঠে না। কিছু বিষয় কখনও বদলায় না!”
অর্থাৎ ইউক্রেন কোনোভাবেই ন্যাটোতে যোগ দিতে পারবে না – রুশ প্রেসিডেন্টের এই হুঁশিয়ারিতেই সিলমোহর দিলেন ট্রাম্প।অথচ মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোয় (নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন) অন্তর্ভুক্তিই ছিল ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অন্যতম দাবি। কারণ বিপুল ক্ষমতাধর রাশিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষবিরতিতে ইউক্রেনের প্রধান দাবি ছিল নিরাপত্তা সংক্রান্ত। শান্তিচুক্তি হলেও যেকোনও সময় রাশিয়া ফের ইউক্রেন আক্রমন করতে পারে এই আশঙ্কা থেকেই ন্যাটোয় যোগ দিতে চান জেলেনস্কি। এদিকে আমেরিকার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের দাবি ন্যাটোয় যোগদান নয়, ন্যাটো নিয়মাবলির কেবলমাত্র ‘আর্টিকেল ৫’-এ সম্মতি দিতে রাজি পুতিন।
শুক্রবার আলাস্কায় ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে বৈঠক হয়। তিন ঘণ্টার আলোচনার পর ট্রাম্প জানান, যুদ্ধবিরতির চুক্তি এখনও হয়নি, তবে অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বৈঠককে ‘খুব ফলপ্রসূ’ বলেও অভিহিত করেন। এর পরেই জেলেনস্কিকে হোয়াইট হাউসে ডেকেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আসছেন ইউরোপের অন্যান্য নেতারাও।একদিন আগেই ট্রাম্প জানিয়েছেন “হোয়াইট হাউসে আগামীকাল বড় দিন। এত ইউরোপীয় নেতাকে একসঙ্গে আগে কখনও আতিথ্য দিইনি। তাঁদের আতিথ্য দেওয়া আমার জন্য বড় সম্মানের।”
তবে যাই হোক না কেন বল এখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কোর্টে। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “এখন বিষয়টি মূলত প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ওপর নির্ভর করছে। আমি বলব, ইউরোপীয় দেশগুলোকেও কিছুটা এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত জেলেনস্কিকেই নিতে হবে।”
Leave a comment
Leave a comment
