আবারও এক কলঙ্কজনক ঘটনার সাক্ষী থাকল ফুটবল। বুধবার (ভারতীয় সময়ে বৃহস্পতিবার) কোপা সুদামেইকানায় শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনার ইন্ডিপেন্ডিয়েন্টে এবং চিলির ক্লাব ইউনিভার্সিদাদ দে চিলি। কিন্তু দুই দলের সমর্থকদের সংঘর্ষে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটল এই ম্যাচে। দুই গোষ্ঠীর মারামারিতে ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। যার মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই ঘটনায় ১০০ জনেরও বেশি লোকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুয়েনস আয়ার্সের আভেয়ানেদা স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই ম্যাচে এক দলের সমর্থকেরা আরেক দলের সমর্থকদের ওপর ছুরি, লাঠি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন বলে অভিযোগ।
ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, গ্যালারির ওপরের স্ট্যান্ড থেকে দুজন সমর্থক লাফ দিচ্ছেন অথবা পড়ে যাচ্ছেন। এমনকি কয়েকজনকে রক্তমাখা অন্তর্বাস পরে প্রাণভয়ে ছুটে পালাতেও দেখা গিয়েছে। ঘটনার জেরে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় ম্যাচটিকে।
সান্তিয়াগোতে সুদামেইকানায় শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ১-০ জয় পেয়েছিল ইউনিভার্সিদাদ। বুধবার বুয়েনস আয়ার্সে ফিরতি লেগে খেলা চলে মাত্র ৪৮ মিনিট। ফলাফল ছিল ১-১। এর পরই গ্যালারিতে দুই দলের সমর্থকদের সংঘর্ষের কারণে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা কনমেবলে’র তরফে জানানো হয়েছে, “স্থানীয় ক্লাব এবং স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যার্থ হওয়ার কারণেই ম্যাচটি বাতিল করা হয়েছে।”
ঘটনার তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু করেছে কনমেবল। জরিমানার পাশাপাশি দুটি ক্লাবকেই প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে। এই প্রসঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, “সমর্থকদের হিংসার কারণে ইন্ডিপেন্ডিয়েন্টে ও ইউনিভার্সিদাদের মধ্যে ম্যাচটি বাতিল হওয়ার তীব্র নিন্দা জানাই। ফুটবলে হিংসার কোনও জায়গা নেই।”
এদিকে আর্জেন্টিনার পুলিশ আবার গোটা দায়টাই চাপিয়েছে চিলির সমর্থকদের কাঁধে। তাদের তরফে জানানো হয়েছে, চিলির ক্লাবটির সমর্থকেরা গ্যালারির ওপর বসেছিলেন। তাঁরা সেখানে আসনগুলি ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি স্টেডিয়ামের বিশ্রামকক্ষেও ভাঙচুর চালান।
গোটা ঘটনার নিন্দা করে সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতি জারি করেছেন চিলির রাষ্ট্রপতি গ্যাব্রিয়েল বোরিক। তিনি লেখেন, “যা ঘটেছে তা পুরোটাই ভুল। স্ট্যান্ডে সমর্থকদের মধ্যে হিংসা থেকে শুরু করে সংগঠনের দায়িত্বহীনতা পর্যন্ত।” বোরিক চিলির রাষ্ট্রদূতকে আর্জেন্টিনার রাজধানীতে থানায় আটক এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সমর্থকদের দেখতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
