পশ্চিম মেদিনীপুরের সাঁতরাপুর হাইস্কুলে শুক্রবার অনুষ্ঠিত আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান শিবির শুধু অংশগ্রহণমূলক শাসনের মঞ্চই ছিল না। এটি পরিণত হয়েছিল সামাজিক জাগরণের এক আসরে। সাঁতরাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর বুথ ক্লাস্টারে আয়োজিত এই শিবিরে আশপাশের গ্রামের প্রচুর মানুষ জড়ো হন। গান ও পথনাটিকার মাধ্যমে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা দেওয়া হয়। সমস্যার শিকড়ে আঘাত হানার বার্তা।
সাধারণ সচেতনতা অভিযানের মতো নয়, এই শিবির হয়ে উঠেছিল সৃজনশীল প্রকাশের এক মঞ্চ। এখানে ছাত্র-ছাত্রীরাই নিজে থেকে অভিনয় করে বার্তা ছড়িয়ে দেয়। গান, নাটিকা আর সংলাপের মাধ্যমে স্থানীয় যুবক-যুবতীরা তুলে ধরে অল্প বয়সে বিয়ের কঠিন বাস্তবতা এবং তা মেয়েদের জীবনে কীভাবে ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। এই পরিবেশনা শুধু বাল্যবিবাহের নিন্দাই করেনি, দেখিয়েছে কীভাবে কন্যাশ্রীর মতো সরকারি প্রকল্প মেয়েদের পড়াশোনা ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে জীবন বদলে দিচ্ছে।
কেশিয়াড়ির বিডিও হিতাংশু হালদার বলেন, “এটি স্কুল কর্তৃপক্ষের একটি অভিনব ভাবনা ছিল। ছাত্র-ছাত্রীরা যেভাবে প্রকল্পটির অনুভূতি ও আবেগকে বুঝে শক্তিশালীভাবে প্রকাশ করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান শিবিরের পরিবেশে, যেখানে অভিভাবক, শিক্ষক আর গ্রামবাসীরা উপস্থিত ছিলেন, পুরো বিষয়টি আরও অর্থবহ হয়ে উঠেছিল। প্রতিক্রিয়াও ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক; মানুষ গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রশাসন খবর পাওয়া মাত্রই বাল্যবিবাহ ঠেকাতে হস্তক্ষেপ করে। আমাদের সাফল্যের হার খুবই বেশি। দূরবর্তী এলাকাগুলোতে গিয়ে পঞ্চায়েত, গ্রাম ও স্কুলে এ ধরনের সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হয়।”
আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান কর্মসূচিটি মূলত মানুষের দোরগোড়ায় শাসনব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি এক ধরনের সামাজিক মঞ্চে পরিণত হচ্ছে। এই শিবিরগুলিতে সৃজনশীল উদ্যোগ প্রমাণ করছে, যখন মানুষ নিজেরাই সামাজিক সংস্কারের দায়িত্ব নেয়, তখন তা কতটা কার্যকর হয়।
