কসবার আইন কলেজে ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় চার্জশিট পেশ করেছে কলকাতা পুলিশ। ঘটনার ৫৮ দিনের মাথায় চার্জশিট পেশ হল। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র-সহ তার দুই ঘনিষ্ঠ সাগরেদ এবং আইন কলেজের নিরাপত্তারক্ষীর নাম রয়েছে চার্জশিটে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় জোর করে আটকে রাখা, গণধর্ষণ, গুরুতর আঘাত করা, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচারক চার্জশিট গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী।
আলিপুর মুখ্য বিচারবিভাগীয় বিচারকের এজলাসে শনিবার চার্জশিট পেশ করে পুলিশ। চার্জশিটের সঙ্গেই পেনড্রাইভ সহ একাধিক নথিও পেশ করা হয়েছে। ৬৫০ পাতার এই চার্জশিটে মূল বিষয়গুলো রয়েছে ১৭০ পাতাজুড়ে। চার্জশিটের সঙ্গে পেশ করা হয়েছে অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষা, ডাক্তারি পরীক্ষা ও ফরেনসিক পরীক্ষার বিভিন্ন রিপোর্ট। বিশেষ সূত্রে খবর, নির্যাতিতা ছাত্রীর দেহ থেকে সংগৃহীত নমুনার সঙ্গে মনোজিতের ডিএনএ-র নমুনাও মিলে গিয়েছে। যা চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। ৮০ জনের বয়ানের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে এই চার্জশিট। চার্জশিটে তাদের বয়ানের উল্লেখ্য রয়েছে।
পুলিসের অনুমান, মনোজিৎ সেদিনের ঘটনার বেশ কিছু ছবি তার মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করেছিল। পরে ওই ছবি দেখিয়ে নির্যাতিতাকে ব্ল্যাকমেল করাই ছিল মনোজিতের উদ্দেশ্য। এর আগেও সে আরও কয়েকজন তরুণীর সঙ্গে এই কাজ করেছিল বলে পুলিসের অনুমান। ঘটনার ভিডিয়ো ও রেকর্ডিং করার জন্য মনোজিতের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২৫ জুন সন্ধ্যায় কসবা আইন কলেজের ভিতরে ওই ছাত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়েছিল। কলেজে নিরাপত্তারক্ষীর ঘরে ওই ছাত্রীকে আটকে রেখে বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চলে। ২৬ জুন নির্যাতিতার পরিবার কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ ল কলেজের অস্থায়ী কর্মী মনোজিৎ এবং তার দুই সঙ্গী প্রমিত মুখোপাধ্যায় ও জইব আহমেদকে গ্রেফতার করে। পরে গ্রেফতার করা হয় কলেজের নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দোপাধ্যায়কে। শনিবার ধৃত চারজনকে আদালতে তোলা হলে ফের তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
