২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে হামলার জেরে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তা আজও থামার লক্ষণ নেই। বিরাট ক্ষমতার অধিকারী রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেন যুদ্ধ করে চলেছে নানা কৌশলের মাধ্যমে। বেশ কিছুদিন ধরেই ইউক্রেন ড্রোন হামলা চালাচ্ছে রাশিয়ার নানান জ্বালানি ক্ষেত্রে। হামলা চালানো হচ্ছে তৈল শোধনাগার, পাম্প স্টেশন ও জ্বালানি পরিবহন ট্রেনের ওপর, যার লক্ষ্য শুধু রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করা নয়, বরং রাশিয়ার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকেও বিঘ্নিত করা। যাতে পুতিনের উপর থেকে চলে যায় সাধারণ মানুষের ভরসাটাই।
গরমকালে রাশিয়ার গাড়ি শিল্প ও কৃষকদের জন্য পেট্রোলের চাহিদা থাকে সর্বোচ্চ। সেই চাহিদা না মেটায় বিঘ্নিত হচ্ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন। শুধু আগস্ট মাসেই অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ক্ষেত্রে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের ড্রোন। এসব শোধনাগারের বার্ষিক উৎপাদন ৪৪ মিলিয়ন টনেরও বেশি, যা রাশিয়ার মোট ক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ।
তথ্য বলছে দক্ষিণ রাশিয়ার সবচেয়ে বড় শোধনাগার ভলগোগ্রাদের বিশাল লুকঅয়েল শোধনাগারে হামলা চালানো হয়েছে। ১৪ আগস্ট ভোরে সেখানে ভয়াবহ আগুন লাগে। ১৯ আগস্ট ফের হামলা হয় সেই কারখানায়। এছাড়া সারাতভ অঞ্চলের আরেকটি বড় শোধনাগারেও হামলা হয়েছে। রোস্তভ অঞ্চলের একটি রিফাইনারিতে হামলার দুই দিন পরও আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।
আর এর ধাক্কা বেশ ভালভাবেই টের পাচ্ছে রুশ প্রশাসন। রাশিয়ার বেশ কয়েকটি অঞ্চল এবং দখল করা ক্রিমিয়ায় পেট্রোলের সংকট দেখা দিয়েছে। ক্রিমিয়ার রাশিয়া-নিযুক্ত গভর্নর সের্গেই আকসিওনভ স্বীকারও করে নিয়েছেন যে জ্বালানি পরিবহনে ‘লজিস্টিক সমস্যা’ তৈরি হয়েছে। জনপ্রিয় গ্রেডের পেট্রোল পুরোপুরি বাজার থেকে উধাও। সরকারি ভর্তুকি থাকা সত্ত্বেও সাধারণ রাশিয়ানদের পাম্পে বেশি দামে পেট্রোল কিনতে হচ্ছে। শুধু এই আগস্টেই সেন্ট পিটার্সবার্গ এক্সচেঞ্জে পাইকারি পেট্রোলের দাম বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ, আর বছর শুরুর তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ। মুদ্রাস্ফীতি কমাতে ও ঘাটতি সামলাতে রাশিয়া সরকার রফতানি নিষিদ্ধ করেছে।
ইউক্রেন দাবি করছে, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত দূরপাল্লার হামলায় অন্তত ৭৪ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে রাশিয়ার। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব পরিকাঠামো মেরামত করা বা সারিয়ে নেওয়াটাও রাশিয়ার জন্য জটিল হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় ঘাটতি মেটাতে রুশ কোম্পানিগুলো এখন রাশিয়ার বন্ধু দেশ বেলারুশ থেকে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছে।
রাশিয়ার তেল রফতানি ব্যবস্থাকে নষ্ট করে দিতে চাইছে ইউক্রেন। সম্প্রতি ইউক্রেনের ড্রোন হামলা হয় রাশিয়ার দ্রুজবা পাইপলাইনে, যা হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়াকে তেল সরবরাহ করে। এ নিয়ে দুই দেশই ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন। তবে মস্কোর ‘অবশ্যই জিতব’ ধারণাকে ভেঙে দিতে রাশিয়ার জ্বালানি ক্ষেত্রের ওপর হামলারই কৌশল নিয়েছে ইউক্রেন।
