উত্পল পট্টনায়ক
বন্যপ্রাণ পর্যটনে নতুন দিগন্ত খুলতে চলেছে মধ্যপ্রদেশে। রাজ্যের চার বাঘ সংরক্ষণ কেন্দ্রকে জুড়ে ফেলবে বহু লেনের হাইওয়ে। রাজ্যের দাবিতে কমবেশি ৫৫০০ কোটি টাকার টাইগার এক্সপ্রেসওয়ে প্রজেক্ট বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক। হাইওয়ে তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হলে নিকটতম বিমানবন্দর জবলপুর থেকে সড়কপথে খুব দ্রুত পৌঁছে যাওয়া যাবে কানহা, বান্ধবগড়, পেঞ্চ কিংবা পান্নায়। যদিও টাইগার এক্সপ্রেসওয়ের প্রজেক্ট ঘিরে তাঁদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন পরিবেশবিদরা।
গত ২৩ আগস্ট জবলপুরে রাজ্যের দীর্ঘতম ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ফ্লাইওভার উদ্বোধন করতে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি। সেই অনুষ্ঠানেই তিনি টাইগার এক্সপ্রেসওয়ে তৈরির প্রকল্পটি ঘোষণা করেন। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে টাইগার রিজার্ভ ফরেস্টগুলিকে হাইওয়ের মাধ্যমে জোড়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের পিডব্লুডি মিনিস্টার রাকেশ সিং। গড়করির কাছে এই নিয়ে চিঠিও পাঠান।
চিঠিতে মন্ত্রী লেখেন, জবলপুর ও কানহা টাইগার রিজার্ভ এবং জবলপুর থেকে বান্ধবগড় টাইগার রিজার্ভের মধ্যে রাস্তাটি চার লেনের মহাসড়কে যেন উন্নীত করা হয়। জানানো হয় জবলপুর হল মহাকোষলের সবচেয়ে বিশিষ্ট শহর। এটি প্রশাসনিক রাজধানী, গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্র এবং এখানে হাইকোর্টও অবস্থিত। মন্ত্রী আরও লেখেন যে, জবলপুর এই অঞ্চলের একমাত্র বিমানবন্দর, যেখানে বাণিজ্যিক বিমানের যোগাযোগ রয়েছে। আর কানহা এবং বান্ধবগড় যেহেতু বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করে, সড়কপথে যোগযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হোক।
রাজ্যের পূর্তমন্ত্রীর সেই প্রস্তাব অনুযায়ী পেঞ্চ এবং পান্না ব্যঘ্র সংরক্ষণাগারকেও হাইওয়ের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সম্প্রসারিত করা হয়। সড়কপথে জবলপুর থেকে কানহা ১২০ কিমি, বান্ধবগড় থেকে ১৭০ কিমি এবং পান্না থেকে ২৮৮ কিমি দূরে। পেঞ্চ টাইগার রিজার্ভ ২০০ কিমি দূরে।
সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার টাইগার এক্সপ্রেসওয়ে প্রজেক্ট ঘিরে তাঁদের উদ্বেগের কথাও কিন্তু তুলে ধরেছেন রাজ্যের পরিবেশবিদরা। এনটিসিএ-র (National Tiger Conservation Authority) কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। লেখা হয়েছে “রাস্তা নির্মাণের ফলে বন কেটে ফেলা হবে। বাঘ সংরক্ষণের স্বার্থে পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় যানবাহন কম থাকা উচিত এবং সেই অনুযায়ী রাস্তার ডিজাইন করা উচিত। পর্যটন কখনই সংরক্ষণের ঊর্ধ্বে হতে পারে না”।
এক্সপ্রেসওয়ে তৈরির কাজে যুক্ত এক আধিকারিক অবশ্য বলেছেন, সড়ক নির্মাণের সময় এগুলি তাঁরা মাথায় রাখবেন। বন্যপ্রাণ চলাচলের রাস্তায় প্রয়োজনে আন্ডারপাস তৈরিরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আশ্বস্ত করেছেন কোনওভাবে বন্যপ্রাণের যাতায়াত থমকে যাবে না, দুর্ঘটনা এড়ানোরও সবরকম ব্যবস্থা করা হবে।
