প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সহপাঠী ছাত্রীদের ‘অশ্লীল’ ছবি সমাজ মাধ্যমে পোস্টের অভিযোগ। কাঠগড়ায় হাওড়া জগৎবল্লভপুর ব্লকের একটি স্কুলের দশম শ্রেণির দুই ছাত্র। অভিযুক্তদের অবিলম্বে স্কুল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে চলে টানা বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধ। বিক্ষোভে সামিল ছিল স্কুলের অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে তাদের অভিভাবকরাও। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে দুই অভিযুক্ত ছাত্রের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছিল জগৎবল্লভপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।
স্কুল ও পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি দশম শ্রেণির দুই ছাত্র এআই টুলস (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ব্যবহার করে সহপাঠী ছাত্রীদের অশ্লীল ছবি সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই স্কুল চত্বর জুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। অভিযুক্ত দুই ছাত্রের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নিয়েই পথে নামেন অভিভাবকরা। স্থানীয়রাও সরব হলে নিমেষে উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ২ শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তাঁদের ছেলেরা এই ধরনের কাজ আর করবে না। তবে এমন নিরীহ আশ্বাসে কিন্তু বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। বরং তাঁরা স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের কাছে অভিযুক্ত ২ ছাত্রের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের দাবি করেছেন।
হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ সুপার সুবিমল পাল বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য, তিনি এফআইআর দায়ের করার পরামর্শও দেন। আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, “এফআইআর দায়ের হওয়ার পরে, পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকারক অপব্যবহার মোকাবেলায় আই টি অ্যাক্টে মামলা দায়ের করারও পথ রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে তদন্তের আওতায় থাকবে স্কুলও।
এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা দুই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কড়া শাস্তির দাবি তুলেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে। অচলাবস্থা কাটিয়ে দ্রুত পঠন-পাঠন স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতে স্কুলও এই বিষয়ে পদক্ষেপ করার ইঙ্গিত দিয়েছে। অভিভাবকরা ওয়েব থেকে তাঁদের সন্তানদের অশ্লীল ছবিগুলি দ্রুত সরিয়ে ফেলার বিষয়ে পুলিশি পদক্ষেপেরও অনুরোধ করেছেন।
