কাছাকাছি বললে সম্পূর্ণটা বোঝানো যাবে না, সঠিক কথাটি হল আরও কাছাকাছি। সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে এটাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাক্ষাতের নির্যাস। সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন সম্মেলনের পর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পথে একসঙ্গে একই গাড়িতে সফর করলেন মোদি ও পুতিন। এর পর দুই রাষ্ট্রপ্রধানের চলে লম্বা দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার এই দীর্ঘ আলোচনা বিশেষ চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে বিশ্বজুড়ে।
এসসিও সম্মেলনের কাজ শেষ হওয়ার পর পুতিন নিজেই মোদির সঙ্গে একই গাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এজন্য তিনি প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষাও করেন। জানা গেছে, একই গাড়িতে চলার সময় গাড়িতে দুই নেতা বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনাও করেন। এমনকি গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়ার পরও প্রায় ৪৫ মিনিট তাঁরা গাড়িতেই সেই আলোচনা চালিয়ে যান। এরপর রিত্জ-কার্লটন হোটেলে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়, যা চলে এক ঘণ্টারও বেশি সময়।
রাশিয়ার থেকে সস্তায় তেল কেনার জেরে ভারতের উপর বিপুল শুল্ক চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রকাশ্যে ভারতের রাশিয়ার সঙ্গে তেল ব্যবসার সমালোচনাও করেছেন তিনি। যদিও নয়াদিল্লি মার্কিন শুল্ককে ‘অন্যায়, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিযুক্ত করে দেশের স্বার্থেই জ্বালানি আমদানির নীতি ঠিক করার কথা জানিয়েছে। মার্কিন চাপের মধ্যেই মোদি ও পুতিনের এই মুহূর্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক বিশ্বের অন্যতম স্থিতিশীল সম্পর্ক হিসেবে পরিচিত। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পশ্চিমি দেশগুলো মস্কোর জ্বালানির দাম বেঁধে দিলে ভারত রাশিয়ার অন্যতম বড় তেলের ক্রেতা হয়ে উঠেছে। একইসঙ্গে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে রুপি-রুবল বাণিজ্য ব্যবস্থাকে সরল করার চেষ্টাও করছে দিল্লি। এমন পরিস্থিতিতে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন সম্মেলনে মোদি-পুতিন দীর্ঘ সংলাপ দুদেশের সম্পর্কে বড়সড় অগ্রগতির খবর দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
