আশঙ্কা ছিল। সেটাই সত্যি হল। প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় এসে তিন রুটে মেট্রো চালিয়ে দেওয়ার পর থেকেই পুরনো লাইনে ঝঞ্ঝাট বেড়েই চলে। ব্লু লাইনে মারাত্মক ভিড়, রেকের সমস্যা, দরজা বন্ধ না হওয়ার মতো সমস্যায় জেরবার হতে হচ্ছিল নিত্যযাত্রীদের। অনেকে মেট্রোর পরিকাঠামো নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিলেন। কর্মী সঙ্কটের সমস্যাও মাথাচাড়া দিচ্ছিল। সামাল দিতে হিমশিম মেট্রো কর্তৃপক্ষ।
অবশেষে বড় সিদ্ধান্ত। কমানো হল ২২টি পরিষেবা। এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি শহিদ ক্ষুদিরামেও যাবে না যাওয়া। যদি শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে মেট্রো রিভার্সাল পয়েন্টের সমস্যার জন্য ডাউন লাইন থেকে আপ লাইনে ঘোরাতে সমস্যা হয়, তাহলে ওই ৩টি রেক উত্তম কুমার থেকে বের করে যাত্রী পরিষেবার জন্য ব্যবহার করা হবে।
ক্ষুদিরাম থেকে সুভাষ মেট্রো সাময়িক বন্ধ ছিল। মেট্রো চলছিল ক্ষুদিরাম পর্যন্ত। রিভার্সাল পয়েন্ট বা আপলাইন থেকে ডাউনলাইন রেক বদলের যে পয়েন্ট সেখানে সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। যার জেরে নিত্যদিন দুর্ভোগ যাত্রীদের। কখনও একের পর এক ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ছে, কখনও আবার ধীর গতিতে চলছে ট্রেন। এই অবস্থায় কলকাতা মেট্রোর বিরাট পদক্ষেপ।
কলকাতা বিমানবন্দর থেকে নোয়াপাড়া হয়ে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত সরাসরি মেট্রো পরিষেবা চলছিল। সেই পরিষেবা আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ নোয়াপাড়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর এবং কলকাতা বিমানবন্দর থেকে নোয়াপাড়ার মধ্যেই বর্তমানে মেট্রো চলবে। উত্তর-দক্ষিণ করিডর বা ব্লু লাইনে মেট্রো পরিষেবা নিতে হলে নোয়াপাড়ায় নেমেই মেট্রো ধরতে হবে। ব্লু লাইন অর্থাৎ দক্ষিণেশ্বর থেকে ক্ষুদিরাম পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা ২৮৪ থেকে কমিয়ে ২৬২ করা হল। অর্থাৎ যাত্রী চাপ এবং বিভ্রাট নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে পরিষেবা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রায় প্রতিদিনই টালিগঞ্জ বা মহানায়ক উত্তম কুমার স্টেশন থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবায় বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে রিভার্সাল পয়েন্টে। সে কারণেই এবার থেকে মহানায়ক উত্তম কুমার স্টেশনে ৩টি রেক এবং নোয়াপাড়া মেট্রো স্টেশনে ৩টি রেক অতিরিক্ত রাখা থাকবে। যদি শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে মেট্রো রিভার্সাল পয়েন্টের সমস্যার জন্য ডাউন লাইন থেকে আপ লাইনে ঘোরাতে সমস্যা হয়, তাহলে ওই ৩টি রেক উত্তম কুমার থেকে বের করে যাত্রী পরিষেবার জন্য ব্যবহার করা হবে। একইভাবে নোয়াপাড়ার দিকে সমস্যা দেখা দিলে সেখানে রাখা অতিরিক্ত ৩টি রেক যাত্রী পরিষেবার কাজে ব্যবহার করা হবে।
সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে টালিগঞ্জ নিয়ে। কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন চালু হওয়ার পর সেখানকার কারশেড ব্যবহার হত। কিন্তু বিপর্যয়ের পর একাধিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে মেট্রো পরিষেবায়। তাই এবার পুনরায় টালিগঞ্জ স্টেশনের কারশেড চালু করার সিদ্ধান্ত নিল মেট্রো কর্তৃপক্ষ। বেশ কিছু মেট্রো সেই কারশেডে রাখা হবে। কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনের কারশেড পর্যন্ত রেক নিয়ে যাওয়া হবে না। সকালের দিকে মেট্রো পরিষেবা যাতে মসৃণ থাকে, তার জন্য একাধিক যান্ত্রিক এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
