অযোগ্য শিক্ষকদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। দেখা গিয়েছে, অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকায় তৃণমূলের একাধিক নেতা, মন্ত্রী, বিধায়কের নিকটাত্মীয়ের নাম রয়েছে। এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে এক তৃণমূল নেতার ভিডিয়ো। ( ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি জজবাত ২৪)। পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের ওই নেতার নাম পার্থসারথি মাইতি। তিনি তমলুক পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। এমনকি, রাজ্য যুব তৃণমূলের সহ-সভাপতিও তিনি।
ওই ভাইরাল ভিডিয়োতে তৃণমূল কাউন্সিলরকে কানধরে ওঠবোস করতে দেখা গিয়েছে।
ভিডিয়োতে পার্থসারথি বলেছেন, “তৃণমূলের অনেক নেতাই শিক্ষকের চাকরি পাইয়ে দিতে টাকা নিয়েছেন। কিন্তু মেদিনীপুরের কোনও তৃণমূল নেতাই আর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলছেন না। তাঁরা ভাবছেন মুখ খুললেই হয়তো পদ চলে যাবে। তাই তৃণমূল নেতারা এখন মুখ খুলতে নারাজ। তাই জেলার সব তৃণমূল নেতার হয়ে আমি জনসাধারণের কাছে কান ধরে ক্ষমা চাইছি।”
পার্থসারথির ক্ষমা চাওয়ার ওই ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
ওই ভিডিয়োতে পার্থসারথি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
তিনি বলেন, শুভেন্দু সবচেয়ে বেশি চুরি করেছে। শুভেন্দু অধিকারী শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মাস্টার মাইন্ড। এখন উনি অনেক বড় বড় কথা বলছেন। কিন্তু তৃণমূলের কোন নেতাই শুভেন্দুর সেই কথার পাল্টা জবাব দিচ্ছে না।
তৃণমূল নেতা পার্থসারথির এই ভিডিয়ো নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। তমলুকের বিজেপি নেতা তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “শুভেন্দু কখনই এই চাকরি চুরির সঙ্গে যুক্ত নন। তৃণমূল এখন বেকায়দায় পড়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। তৃণমূলের মূল মাথারাই চোর। ওরা বুঝে গিয়েছে ওদের পায়ের তলায় মাটি নেই। তাই নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের ঘটনা তুলে ধরছে।”
বিজেপির কটাক্ষ, পার্থসারথি মাইতির মস্তিষ্কের চিকিৎসা প্রয়োজন।
তবে দলের নেতা পার্থসারথির এই ভিডিয়ো নিয়ে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব কোন মন্তব্য করতে চায়নি।
