শিয়ালদহ-রানাঘাটের পর এবার শিয়ালদহ-কৃষ্ণনগর। বহুদিনের দাবি ও প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে কৃষ্ণনগর স্টেশন থেকে প্রথমবারের মতো চালু হল শিয়ালদহগামী এসি লোকাল ট্রেন। শুক্রবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে কৃষ্ণনগর থেকে ছেড়ে ট্রেনটি বিকেল ৩টে ৪০ মিনিটে পৌঁছয় শিয়ালদহে। যাত্রীদের ভিড় এবং উচ্ছ্বাসেই বোঝা গিয়েছে, এই পরিষেবার জন্য কতটা অপেক্ষা করেছিলেন তারা।
নদিয়া জেলা একদিকে মন্দির নগরী, অন্যদিকে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র। ফলে কলকাতার সঙ্গে এই জেলার সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষ্ণনগর থেকে কলকাতার দূরত্ব কমাতে এবং যাত্রীদের আরামদায়ক যাতায়াতের ব্যবস্থা করতেই এই উদ্যোগ। বিশেষত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসার জন্য যারা কলকাতা আসেন, তাদের কাছে এই এসি লোকাল ট্রেন হয়ে উঠবে বাড়তি সুবিধা। যাত্রাপথে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ রোগী ও তাদের পরিবারদের আরাম দেবে বলেই জানাচ্ছেন যাত্রীরা।
নদিয়ার নবদ্বীপ ও মায়াপুর ধাম প্রতিদিন হাজার হাজার পুণ্যার্থীর ভিড় সামলায়। তাদের কাছেও এই এসি লোকাল বড় স্বস্তি নিয়ে এল। প্রথম দিনের যাত্রায় বহু মানুষ খুশির মুখে জানিয়েছেন, এই পরিষেবা তাদের যাতায়াতকে আরও সহজ করবে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই লোকালে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্যও রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। কয়েকদিন আগে রানাঘাট থেকে এসি লোকাল চালুর পর এদিন কৃষ্ণনগর থেকেও সূচনা হলো নতুন পরিষেবার। একই দিনে চালু হয় রানাঘাট–বনগাঁ ও রানাঘাট–শিয়ালদহ এসি লোকালও।
আগামী দিনে আরও ট্রেন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে রেল সূত্রে খবর। সব মিলিয়ে যাত্রীদের মনে এখন নতুন আশা, প্রতিদিনের যাত্রা এবার থেকে আরও আরামদায়ক এবং ঝামেলাহীন হতে চলেছে। বলা যায়, কৃষ্ণনগরবাসীর বহু প্রতীক্ষার অবসান হল।
