ভারতের তরফে যুক্তরাজ্যে ফেরার থাকা আর্থিক কেলেঙ্কারিতে যুক্ত অপরাধী ও পলাতক ব্যক্তিদের ফেরানোর উদ্যোগের মধ্যে এবার তিহাড় জেল পরিদর্শন করল ব্রিটেনের ক্রাউন প্রোসিকিউশন সার্ভিস-এর একটি দল। সূত্রের খবর, চলতি বছরের জুলাই মাসেই এই পরিদর্শন সম্পন্ন হয়।
ভারত যে সমস্ত পলাতককে দেশে ফেরাতে চাইছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিজয় মালিয়া, নীরব মোদি ও সঞ্জয় ভাণ্ডারির মতো হাই-প্রোফাইল আসামি।
সূত্রের খবর, চার সদস্যের ওই দলে ছিলেন দুইজন সিপিএস বিশেষজ্ঞ ও দুইজন ব্রিটিশ হাই কমিশনের আধিকারিক। তাঁরা তিহাড় জেলের হাই-সিকিউরিটি ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন, বন্দিদের জন্য থাকা সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখেন এবং কয়েকজন বন্দির সঙ্গেও কথা বলেন।
অফিসিয়াল সূত্রের দাবি, ব্রিটিশ টিম তিহাড়ের বন্দিশালার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে মোটের উপর সন্তুষ্ট। তাঁদের মন্তব্য অনুযায়ী, জেল ব্যবস্থা “ভালো” এবং “আন্তর্জাতিক মানের কাছাকাছি”। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, হাই-প্রোফাইল অভিযুক্তদের প্রয়োজনে আলাদা জায়গায় রাখা হবে এবং তাঁদের বিশেষ চাহিদার প্রতি নজর দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্পষ্ট জানানো হয়েছে, প্রত্যর্পিত বন্দিদের কোনো ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে হবে না।
এই পরিদর্শন এমন এক সময়ে হল, যখন কয়েক মাস আগেই যুক্তরাজ্যের আদালত অস্ত্র ব্যবসায়ী সঞ্জয় ভাণ্ডারিকে ভারতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিল। তখন আদালত জানিয়েছিল, তিহাড় জেলে গেলে তিনি ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন, যেমন তোলাবাজি, হুমকি কিংবা অন্য বন্দি বা কারাকর্মীদের দ্বারা হিংসাত্মক ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা। সেই কারণে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ভারতের কাছে লিখিত গ্যারান্টি চেয়েছিল, যাতে কোনও বন্দিকে তিহাড়ে খারাপ ব্যবহার করা না হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের মোট ১৭৮টি প্রত্যর্পণ অনুরোধ বিভিন্ন দেশে বিচারাধীন। এর মধ্যে অন্তত ২০টি যুক্তরাজ্যে আটকে আছে। ওই তালিকায় রয়েছেন বিজয় মালিয়া, নীরব মোদি ও সঞ্জয় ভাণ্ডারির মতো বড় বড় নাম, পাশাপাশি একাধিক খালিস্তানি নেতাও।
