বিস্ফোরণে মুম্বই শহরের একাধিক এলাকা উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ফোন এসেছিল পুলিশের কাছে। এই হুমকি দেওয়ার ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের নয়ডা থেকে একজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম অশ্বিনী কুমার। নিজেকে একজন জ্যোতিষী ও বাস্তুবিদ বলে পরিচয় দিত অশ্বিনী। শুক্রবার সকালে মুম্বই পুলিশের কাছে একটি ফোন আসে। ফোনে এক অজ্ঞতপরিচয় ব্যক্তি জানায়, ৩৪ জন আত্মঘাতী জঙ্গি মুম্বই শহরের বিভিন্ন জায়গায় ৪০০ কেজি আরডিএক্স নিয়ে ঢুকে পড়েছে। গোটা মুম্বই শহরে অন্তত ৩৪ টি গাড়ির মধ্যে ৩৪ টি মানব বোমা রাখা আছে। সবগুলি একসঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটবে এবং বহু মানুষের মৃত্যু হবে। ১৪ জন পাক জঙ্গিও মুম্বইয়ে ঢুকেছে বলে ওই ব্যক্তি জানায়। লস্কর-ই-জিহাদি নামে এক সংগঠনের নাম করে ওই হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
ওই হুমকি ফোন পেতেই তৎপর হয় পুলিশ। শুরু হয় ওই ফোনের উৎসের সন্ধান। শেষ পর্যন্ত উত্তর প্রদেশের নয়ডা থেকে অভিযুক্ত অশ্বিনী কুমারকে ধরা হয়।
ধৃতকে জেরা করে জানা গিয়েছে, নয়ডা থেকে কেনা একটি মোবাইল ফোন এবং সিম কার্ড ব্যবহার করে সে মুম্বই পুলিশকে এই হুমকি বার্তা পাঠিয়েছিল বলে অভিযোগ।
প্রশ্ন হল অশ্বিনী কেন এই কাজ করল?
জানা গিয়েছে, এক বন্ধুর প্রতি ব্যক্তিগত আক্রোশ ছিল অশ্বিনীর। বন্ধুর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ভাবনা ছিল তার। কীভাবে বন্ধুকে ফাঁসানো যায় সেই কথা চিন্তা করতেই, সে পুলিশকে হুমকি দেওয়ার কথা ভাবে। বন্ধুর নাম করে সে মুম্বই ট্রাফিক পুলিশের হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে বিস্ফোরণের হুমকি দিয়েছিল।
মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, ওই হুমকি ফোন পাওয়ার পরেই তৎপরতা বাড়ে। বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ পৌঁছে যায় উত্তরপ্রদেশের নয়ডায়। নয়ডার ৭৯ নম্বর সেক্টর থেকে অশ্বিনীকে গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। তারপর তাকে মুম্বই পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশের কাছে হুমকি দেওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছে অশ্বিনী। সে জানিয়েছে, বন্ধুর উপর প্রতিহিংসা মেটাতেই এই হুমকি ফোন করেছিল। ২০২৩ সালে ওই বন্ধু বিহারের পটনায় অশ্বিনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিল। সেই মামলায় তিন মাস জেল খাটতে হয়েছিল অশ্বিনীকে। সে কারণেই বন্ধুর ওপর রাগে ফুঁসছিল অশ্বিনী। কীভাবে বন্ধুকেও ফাঁসানো যায় সে কথা ভাবতে গিয়েই হুমকি ফোনের চিন্তা। অশ্বিনী নয়ডায় থাকলেও আদতে সে বিহারের পটনার বাসিন্দা। অশ্বিনী নিজেকে একজন
জ্যোতিষী এবং বাস্তু বিশেষজ্ঞ বলে পরিচয় দিত।
