ফ্লাশিং মিডোসে উইম্বলডনের বদলা নিলেন কার্লোস আলকারাজ। চলতি বছর ফরাসি ওপেনের ফাইনালে পরাস্ত করলেও এরপরই অল ইংল্যান্ডের ঘাসের কোর্টে ইয়ানিক সিনারের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে শিরোপা হাতছাড়া করেছিলেন তিনি। রবিবার আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে সেই বদলা মিটিয়ে ইউএস ওপেনের দ্বিতীয় খেতাব জিতে নিলেন স্পেনীয় তারকা। এর জেরে দু’বছর পর বিশ্বের শীর্ষস্থানও পুনরুদ্ধার করেছেন তিনি। তবে এই সবকিছুকেই ছাপিয়ে রবিবাসরীয় ফাইনালে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্ট্রেট সেটে জয় না পেলেও এদিন আলকারাজের সাফল্য ছিল কার্যত একতরফা। ২ ঘন্টা ৪২ মিনিটের লড়াই শেষে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সিনারকে তিনি পরাস্ত করেন ৬-২, ৩-৬, ৬-১ এবং ৬-৪ গেমে। আলকারাজের এই জাদুকরী আধিপত্যে মুগ্ধ আট থেকে আশি। খেলা শেষ হতেই করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা গ্যালারি। ব্যতিক্রম শুধু মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। ম্যাচের শেষে ট্রাম্পের অভিব্যক্তি দেখে স্পষ্টতই বোঝা গিয়েছে যে, এই ফলাফলে মোটেই খুশি হতে পারেননি তিনি।
রবিবারের ফাইনালকে কেন্দ্র করে কার্যত তারকার হাট বসেছিল নিউ ইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে। মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ছাড়াও এদিন উপস্থিত হয়েছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির ম্যানেজার পেপ গার্দিওলা এবং এনবিএ গ্রেট স্টেফ কারি। কিন্তু বাকি সকলকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ট্রাম্প। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর তাঁর অসন্তোষে ভরা মুখ ধরা পড়েছে একটি ভিডিও ক্লিপে। যা দেখে নেট দুনিয়ায় স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা শুরু হয়েছে, নিশ্চয়ই ইতালির তারকা সিনারের হয়ে বাজি লাগিয়েছিলেন তিনি। সে কারণেই আলকারাজের জয়ে খুশি হতে পারছেন না।
সমাজ মাধ্যমে এই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ঝড়ের গতিতেই। ভিডিওতে ট্রাম্পের এই অসন্তুষ্ট অভিব্যক্তি দেখে জনৈক নেটাগরিক সরাসরিই লিখেছেন, “ট্রাম্প নিশ্চিতভাবেই সিনারের পিছনে অর্থ লাগিয়েছিলেন। তা না হলে কেন আপনি আলকারাজের জয় উদযাপন করছেন না?” আরেকজন লেখেন, “আজকের আলকারাজ বনাম সিনার ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচটি একটি ক্লাসিক। এই ম্যাচে আমি যদিও নিরপেক্ষ ছিলাম, কিন্তু আলকারাজের জয়ের পর ট্রাম্পের মুখের অভিব্যক্তি দেখুন! এখন আমি খুব খুশি যে আলকারাজ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে।”
এদিন দ্বিতীয় সেটে হেরে গেলেও দ্রুত ফিরে আসেন আলকারাজ। এর পর আর তাঁর সামনে দাঁড়াতে পারেননি ইতালীয় প্রতিপক্ষ। তবু খেলা দেখে খুশি হতে পারলেন না মার্কিন রাষ্ট্রপতি। গত জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি পদে ফিরে আসার পর যাঁকে বার বার বিভিন্ন ক্রীড়ানুষ্ঠানে যোগ দিতে দেখা গিয়েছে। ট্রাম্পের ভাইরাল হওয়া অভিব্যক্তিকে কেউ কেউ তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন বলে মনে করছেন। কেউ কেউ আবার এই অভিব্যক্তিকে হাস্যকর বলেও দাবি করেছেন।
