নির্দিষ্ট সূচি অনুযায়ী ২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা সেই কাজ পিছিয়ে দিল বেশ কয়েক বছর। শেষবার জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। প্রায় ১৫ বছর পর ২০২৭ সালে আবারও পুরোদমে দেশে জনগণনা হতে চলেছে। এই প্রথমবার জনগণনা হবে পুরোপুরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে। যা এর আগে কখনও হয়নি। জনগণনার জন্য বিশেষ অ্যাপ তৈরি করছে কেন্দ্রের মোদি সরকার।
প্রথমবার ডিজিটাল জনগণনা নিয়ে সতর্ক হয়েই এগোতে চাইছে মোদি সরকার। জানা গিয়েছে, এবার সরকারি কর্মীরা জনগণনার জন্য তথ্য সংগ্রহ করবেন নিজেদের মোবাইল ফোনে। তাঁদের জন্য থাকবে বিশেষ একটি অ্যাপ। বাড়ি বাড়ি ঘুরে সংগৃহীত তথ্য সেই অ্যাপের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সার্ভারে আপলোড করতে হবে। এখন সেই বিশেষ সেই অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে।
জানা গিয়েছে, জনগণনার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (আরজিআই) প্রায় ৩৪ লক্ষ গণনাকর্মী নিয়োগ করতে পারে। তাঁরা নিজেদের স্মার্টফোন নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এরপর সংগৃহীত তথ্য নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সার্ভারে আপলোড করবেন। সেই তথ্য ওই বিশেষ অ্যাপে ইংরেজি এবং প্রত্যেক আঞ্চলিক ভাষায় দেখা যাবে। অ্যান্ড্রয়েড এবং আইফোনের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য।
ডিজিটাল ব্যবস্থায় গণনাকারীদের মোবাইলের মাধ্যমেই তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু যদি কোনও কারণে কেউ কাগজে-কলমে তথ্য সংগ্রহ করেন, তবে তাঁকে নির্দিষ্ট ওয়েব পোর্টালে সরাসরি তা নথিভুক্ত করতে হবে। এতে ভুলের সম্ভাবনা এবং জটিলতা অনেক কমবে।
এই প্রথমবার জনগণনার তথ্য ডিজিটালাইজ়ড হবে গণনাকারীদের স্তরেই। ফলে সহজেই সময়মতো সব তথ্য পাওয়া যাবে।
এবার মোট দুই ধাপে জনগণনা হওয়ার কথা। প্রথম পর্যায়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু হয়ে যাবে জনগণনার কাজ। ওই সময়ে বাড়ি-জমি-সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করবে সরকার। দ্বিতীয় পর্বে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে শুরু হবে জনসংখ্যার গণনা। ব্যতিক্রম লাদাখ, জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড। এই চার জায়গায় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই জনসংখ্যার গণনার কাজ মিটিয়ে ফেলবে সরকার। কারণ, ফেব্রুয়ারি-মার্চে ওই সমস্ত এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ বরফে ঢাকা থাকে।
সূত্রের খবর, তথ্য সংগ্রহের গোটা প্রক্রিয়াটির উপর দিল্লি থেকে নজরদারি চালানো হবে। জনগণনার জন্য খরচ হিসেবে ১৪,৬১৮ কোটি টাকা চেয়েছে আরজিআই। নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে এটাই প্রথম জনগণনা। এবার জনগণনার সঙ্গে জাতিগণনার পরিকল্পনাও রয়েছে কেন্দ্রের।
