রেফারি নিগ্রহের ঘটনা এবার জেলা ফুটবল লিগেও। রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটিতে লিগ ফাইনালের মুখোমুখি হয়েছিল বেলঘরিয়া অ্যাথলেটিক ক্লাব ও খ়ড়দহ সূর্য সেন স্পোর্টিং ক্লাব। নৈহাটির বঙ্কিমাঞ্জলি স্টেডিয়ামে সেই পরিত্যক্ত ম্যাচকে কেন্দ্র করে রীতিমতো শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয়েছেন রেফারি চরণ হেমব্রম। ম্যাচ চলাকালীনই রেফারিকে মাঠে ফেলে বেধড়ক পেটানোয় অভিযুক্ত খড়দহের সূর্য সেন স্পোর্টি ক্লাবের ফুটবলার থেকে শুরু করে কর্মকর্তা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা লিগের ফাইনাল ঘিরে দু দলের সমর্থকদের মধ্যে ছিল তীব্র উন্মাদনা। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমজমাট ম্যাচটি ৭১ মিনিট পর্যন্ত ছিল গোলশূন্য। কিছু সময় পরই বেলঘরিয়া অ্যাথলেটিক ক্লাব পেনাল্টি পেলে শুরু হয় গন্ডগোল। রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট খড়দহের সূর্য সেন স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবলারা তাঁকে ঘিরে ধরেন। ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চড়াও হওয়া ফুটবলারদের মধ্যে দুজনকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। অভিযোগ, এরপরই বেধড়ক পেটানো হয়েছে রেফারিকে।
লাল কার্ড দেখেছেন খড়দহের সূর্য সেন ক্লাবের ফুটবলার জিৎ নন্দী এবং গোলরক্ষক কৌশিক ঘোষ। মাঠের উত্তপ্ত পরিবেশ প্রভাব ফেলেছে গ্যালারিতেও। খড়দহের উত্তেজিত সমর্থক মাঠে ঢুকে তেড়ে যায় রেফারির দিকে। উত্তেজিত দর্শকদের সামাল দিতে গিয়ে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন স্টেডিয়াম কর্মী। নিগৃহীত রেফারি চরণ হেমব্রম নৈহাটি স্টেট জেনারেল হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন। জেলা লিগের ফাইনাল ম্যাচটিও পরিত্যক্ত বলে ঘোষিত হয়েছে।
ফুটবল মাঠে গন্ডগোলের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছিলেন নৈহাটির বিধায়ক সনৎ দে। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই মাঠে ঢুকে পড়া চারজন দর্শককে গ্রেফতার করেছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব নবাব ভট্টাচার্য বলেছেন, রেফারি নিগ্রহের ঘটনা কখনই মেনে নেওয়া যায় না। রেফারির রিপোর্ট পেলেই দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করা হবে। যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার মুখোমুখি হলে, ফুটবলাররাও দ্বিতীয় বার ভাববে।
