কেউ কথা রাখছে না। আলাস্কা বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছিল তাতে শান্তি ফেরাটা কেবল সময়ের অপেক্ষা এমনই বার্তা যায় গোটা বিশ্বের কাছে। কিন্তু যত দিন গেছে ততই ইউক্রেনে হামলার ধার বাড়িয়েছে রাশিয়া আর তাতে ফিকে হয়েছে শান্তি ফেরার আশা। ইউক্রেনে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় আকাশপথে আক্রমণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘দ্বিতীয় ধাপ’-এর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর কথা জানিয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয় ট্রাম্প জানিয়েছেন, রুশ তেল কেনে এমন দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ‘দ্বিতীয় ধাপের’ নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য তিনি প্রস্তুত।
রবিবারই রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আকাশপথে সবচেয়ে বড় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে অন্তত চারজন নিহত হন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, রাশিয়া মোট ৮১০টি ড্রোন ও ডিকয় ছোড়ে, যার মধ্যে ৭৪৭টি ড্রোন ও চারটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। নতুন হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আহ্বান করেছেন যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুদ্ধ থামাতে চাপ সৃষ্টি করতে। পাশাপাশি এটাও জানিয়েছেন যে, তিনি শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
এরকম পরিস্থিতিতে ফের রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার ‘দ্বিতীয় ধাপ’ চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। রবিবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, এর এক্তিয়ারে ভারতসহ সেই সব দেশও চলে আসবে যারা এখনও রুশ তেল কিনছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে, রাশিয়া বা রুশ তেল ক্রেতাদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপে তিনি প্রস্তুত কিনা জানতে চাইলে ট্রাম্প সংক্ষিপ্ত উত্তর দেন, “হ্যাঁ, আমি প্রস্তুত।” তবে এর চেয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
এর আগেই, গত মাসে নয়াদিল্লি রাশিয়ার জ্বালানি কিনে অর্থ জোগাচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে ওয়াশিংটন ভারতীয় রফতানির ওপর ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক বসায়, ফলে মোট আমদানি শুল্ক দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। এই প্রেক্ষাপটেই মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রুশ তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর “সেকেন্ডারি ট্যারিফ” আরোপ করতে পারে। তাঁর যুক্তি, রাশিয়ার অর্থনীতি ভেঙে পড়লেই কেবল প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আলোচনায় বসতে বাধ্য হবেন।
