১০ দিনের ম্যারাথন শুনানির পর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর রেফারেন্স মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ বৃহস্পতিবার রায় সংরক্ষণ করেছে। মামলাটির মূল প্রশ্ন ছিল, রাজ্য আইনসভায় পাশ হওয়া বিলগুলিতে রাজ্যপাল ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য কি নির্দিষ্ট সময়সীমা ধার্য করা যায়?
প্রধান বিচারপতি বি. আর. গাভাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি সুর্যকান্ত, বিক্রম নাথ, পি.এস. নরসিমহা এবং এ.এস. চান্দুরকর। শুনানিতে কেন্দ্র, একাধিক রাজ্য সরকার, রাজনৈতিক নেতা ও দলগুলি পক্ষ হিসেবে তাদের বক্তব্য জানিয়েছে।
এর আগে ৮ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ (বিচারপতি জে.বি. পারদিওয়ালা ও আর. মহাদেবন) রায় দিয়েছিলেন যে, “রাজ্যপাল যদি কোনও বিল আটকে রাখতে চান বা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে চান তবে তিন মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
কোনও বিল পুনর্বার পাশ হলে রাজ্যপালকে এক মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রাষ্ট্রপতিকেও রাজ্যপালের পাঠানো বিল তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সংবিধানের ১৪৩(১) অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে ১৩ মে সুপ্রিম কোর্টে এই রায় সম্পর্কে বিস্তারিত বক্তব্য জানতে চেয়ে শীর্ষ আদালতে রেফারেন্স পাঠান। এতে ১৪টি আইনগত প্রশ্ন তোলা হয়, যেগুলি জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
মূল প্রশ্নগুলির মধ্যে ছিল :
১. অনুচ্ছেদ ২০০ অনুযায়ী রাজ্যপালের সামনে বিল এলে তাঁর সাংবিধানিক বিকল্পগুলি কী?
২. রাজ্যপাল কি মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য?
৩. রাজ্যপালের এই ধরনের সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত কি আদালতের পর্যালোচনার আওতায় পড়বে?
৪. অনুচ্ছেদ ৩৬১ কি রাজ্যপালের পদক্ষেপের বিচারগত পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ প্রতিবন্ধক?
৫. সংবিধানে সময়সীমা নির্ধারণ না থাকলেও, আদালত কি বিচারগত নির্দেশের মাধ্যমে সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে?
কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা যুক্তি দেন, আদালত রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে না। তবে তিনি স্বীকার করেন যে রাজ্যপাল অনির্দিষ্টকাল ধরে বিল আটকে রাখতে পারেন না।
অপরদিকে তামিলনাডু, কেরল, তেলাঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক সহ একাধিক রাজ্য জানায়, ৮ এপ্রিলের রায় পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই এবং সময়সীমা নির্ধারণ করা যথাযথ।
এখন সর্বোচ্চ আদালতের রায় কী হবে, তার দিকেই নজর আইন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক মহলের।

