সম্প্রতি দেখা গিয়েছে জাপানে ২৫ বছর বয়সি এক তরুণ বিরল সমস্যায় ভুগছে। তার নাম ড্রপড হেড সিনড্রোম বা সংক্ষেপে ডিএইচএস । দীর্ঘক্ষণ ধরে স্মার্টফোন নিয়ে মজে থাকা, মাথা নিচু করে ফোনের স্ক্রিনে ব্যস্ত থাকা, গেম খেলা ইত্যাদির ফলে একটা সময় এমন হয় যে মাথা ওপরে তুলতে কষ্ট হয়। ঘাড় গলা সমস্ত শক্ত হয়ে যায়। ফুলে যায় । একে বলা হয় ডিএইচিএস বা ড্রপড হেড সিনড্রোম অর্থাৎ মাথা নিচু থাকে যে রোগে।
সাধারণভাবে রোগটি নিউরোমাসকিউলার রোগ কিন্তু এখানে এর কারণ দীর্ঘ সময় ধরে স্মার্টফোন একনাগাড়ে ব্যবহার আর মাথা নিচু করে বসে থাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন সমস্ত দেশে স্মার্টফোন নিয়ে ঘাটাঘাটি আর গেম খেলা এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে এর থেকে বসা সম্পর্কিত নানা রকম রোগ হচ্ছে। সঠিক ভঙ্গিমায় না বসে দীর্ঘক্ষণ ঝুঁকে থাকা, মেরুদণ্ড বেঁকে যাওয়া ইত্যাদির ফলে সমস্যায় ভুগছেন তরুণ প্রজন্ম।
চিকিৎসকরা ইতিমধ্যেই সতর্ক করে দিয়েছেন দীর্ঘক্ষণ ধরে ভুলভাল ভঙ্গিমায় বসে ফোন ব্যবহার করার কী ক্ষতিকর প্রভাব হতে পারে। আচমকা এই রোগে নিচু হয়ে বসে থাকতে থাকতে মাথাটা তোলাই যায় না। অবশ্য একদিনে রোগটা হয় না ।কয়েক বছর ধরে একটানা গেম খেলে যাওয়ার ফলে এই রোগের সূত্রপাত হয়। ডিএইচএস কে অনেক সময় ফ্লপি হেড সিনড্রোমও বলা হয় ।
সাধারণভাবে রোগটি নিউরোমাসকিউলার ডিজিজ হলেও এক্ষেত্রে বছরের পর বছর ভুল ভাবে বসার মাশুল হিসেবে গুনতে হয় এই রোগের কষ্ট ।যেখানে ঘাড় ও গলার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে । এক্ষেত্রে জাপানের যে গেমারের কথা বলা হয়েছে তাকে প্রথম দিকে সামাজিকভাবে নানা রকম হেনস্তা করা হত। সে যে কোনও কারণেই হোক না কেন আর তারপর থেকেই তিনি অতিরিক্ত ভাবে স্মার্টফোনের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন একটা সময় ঘাড় গলা সমস্ত শক্ত হয়ে যায়। চাপ পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সারভাইক্যাল স্পাইন।
অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারে কীভাবে ঘাড়ের ক্ষতি হয় ?
বর্তমানে ব্যস্ত জীবনে স্মার্টফোন ব্যতীত এক মুহূর্ত চলা যায় না আর এই স্মার্টফোন ব্যবহার করতে করতেই ডিএইচ
এস-এর মতো ভয়ংকর রোগ চেপে বসে। প্রাথমিকভাবে ঘাড়ে ব্যথা অনুভূত হয় তারপর আস্তে আস্তে মাথা তুলতে কষ্ট হয়। ইমেজিং পরীক্ষায় ধরা পড়ে পেশি ক্রমশ শক্ত হয়ে গেছে, স্নায়ুতে সমস্যা। সঙ্গে দেখা যায় ভার্টিব্রাতে সমস্যা এবং স্কার টিস্যু তৈরি হয়েছে।।
চিকিৎসা
এর ক্ষেত্রে চিকিৎসা হল সার্জারি। অপারেশন করার মাস ৬ পর থেকে রোগী আস্তে আস্তে ঘাড় নাড়াতে পারেন। অপারেশনের সময় একটি স্ক্রু ও মেটাল রড মেরুদন্ডে বসিয়ে দেওয়া হয়। যাতে তার ভঙ্গিমা সঠিক থাকে। ছয়মাস পর থেকে রোগী মাথা তুলতে পারেন বছর খানেকের মধ্যে রোগী অনেকটাই সুস্থ হয়ে যান এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।
রোগ প্রতিরোধ করবেন কীভাবে?
এক্ষেত্রে প্রথমেই বলতে হবে বসার ভঙ্গিমা ঠিক করুন। সোজা হয়ে বসুন এবং ডিভাইসটি চোখের সামনে রাখুন। যাতে ঘাড় নিচু করতে না হয়।
একটানা অনেকক্ষণ ধরে স্ক্রিনের সামনে বসবেন না মাঝে মাঝে বিরতি নিন।
ঘাড় ও গলার এক্সারসাইজ করুন যাতে এগুলি শক্ত না হয়ে যায়।
এই ঘটনাটি একটি বিরল ঘটনা । দীর্ঘক্ষণ ধরে স্মার্টফোন ব্যবহারে এমনকী ফোন স্ক্রল করলে মেরুদন্ডের উপর চাপ পড়ে, ঘাড়ে চাপ পড়ে কী ভয়ংকর অবস্থা হতে পারে জাপানের ঘটনাটি তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে ।তবে সব ক্ষেত্রেই যে অপারেশনের দরকার হয় তা না যেসব ক্ষেত্রে কম থেকে মধ্যম মাত্রার উপসর্গ থাকে সেখানে জীবনশৈলীগত পরিবর্তন বসার ভঙ্গিমা ঠিক করা এবং এক্সারসাইজের মাধ্যমে সমস্যাটিকে এড়ানো যায় অনেকাংশে।
