রজার ফেডেরারের সুইজারল্যান্ডে গিয়ে তাদেরকেই ৩-১ হারিয়ে, ডেভিস কাপ টেনিসে ইতিহাস গড়ল ভারত। শনিবার দিনের শুরুতে তিন সেটের লড়াইতে ডাবলস ম্যাচ হারলেও, ফিরতি সিঙ্গলসে কাঙ্খিত জয় এনে দিয়েছেন সুমিত নাগাল। বিয়েলে ইনডোর হার্ড কোর্টে প্রতিদ্বন্দ্বী হেনরি বার্নেটকে ৬-১, ৬-৩ ব্যবধানে হারিয়ে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন সুমিত। ডেভিস কাপ স্ট্যান্ডিংয়ে ৩৭ নম্বরে থাকা ভারত, নবম বাছাই সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড গ্রুপ কোয়ালিফায়ারের প্রথম রাউন্ডে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে।
শনিবার ৩২ বছর পরে দেশের বাইরে ভারতের ডেভিস কাপ জয়। তাও আবার ইউরোপীয় কোনও দেশের বিরুদ্ধে। ১৯৯৩ সালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে শেষবার জয়ী হয়েছিল ডেভিস কাপের ভারতীয় দল। ১৯৯৩ সালের পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে তাদের মাটিতে খেললেও জিততে পারেনি ভারত।
শুক্রবার বিয়েলের হার্ড কোর্টে স্বপ্নের মতো শুরু করেছিল ডেভিস কাপে ভারতের দুই সিঙ্গলস প্লেয়ার। দেশের হয়ে খেলতে নেমে অভিষেকেই চমকে দিয়েছেন দক্ষিণেশ্বর সুরেশ। টেনিসের বিশ্বক্রম তালিকায় ৬২৬ নম্বরে থাকা ভারতীয়, ১৫৫ নম্বরে থাকা সুইজারল্যান্ডের জেরোমি কিমের বিরুদ্ধে প্রথম সিঙ্গলস ম্যাচটি জিতে নেন স্ট্রেট সেটে। সেটের ফল ৭-৬, ৬-৩ সুরেশের অনুকূলে। দ্বিতীয় সিঙ্গলসে সুমিত নাগাল হারিয়ে ছিলেন মার্ক আন্দেয়া হিউসলারকে ৬-৩, ৭-৬ গেমে।
২-০ এগিয়ে থেকে ভারত শনিবার দিনের খেলা শুরু করেছিল ডাবলস ম্যাচ দিয়ে। এন শ্রীরাম বালাজি এবং ঋত্বিক চৌধুরি বোল্লিপল্লি মুখোমুখি হন জাকুব পল এবং ডোমিনিক স্ট্রিকারের বিরুদ্ধে। তাঁরা প্রথম সেটটি ৭-৬ জিতেও নেন। কিন্তু ভারতীয় জুটি দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেট হেরে যায় ৪-৬ এবং ৫-৭ ফলে। ব্যবধান কমিয়ে ১-২ করে ফেলে আয়োজক দেশ। চাপে পড়ে যায় সফরকারী দেশ।
তবে রিভার্স সিঙ্গলসের প্রথম ম্যাচটি কিন্তু খেলতে নামেন ভারতের ডেভিস কাপের ১ নম্বর প্লেয়ার সুমিত নাগাল। সুইজারল্যান্ডের ১৮ বছর বয়সী হেনরি বার্নেটকে একরকম উড়িয়ে সেট ও টাই বের করে নেন অভিজ্ঞ সুমিত। ফিরতি সিঙ্গলসে তাঁর জয় ৬-১, ৬-৩ ব্যবধানে।
বিয়েলে ডেভিস কাপের এই গুরুত্বপূর্ণ টাইটি জেতার সুবাদে ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড গ্রুপ কোয়ালিফায়ার্সের প্রথম রাউন্ডে খেলার সুযোগ পাবে ভারত। অন্যদিকে রজার ফেডেরারের দেশকে প্লে অফে খেলেই কোয়ালিফাই করতে হবে। প্রসঙ্গত ডেভিস কাপ টেনিসে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও, ভারত কিন্তু ৩ বারের রানার্স আপ দল(১৯৬৬, ১৯৭৪ এবং ১৯৮৭)।
