ভারত-পাকিস্তান এশিয়া কাপ ২০২৫ ম্যাচকে ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এই ম্যাচের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সন্ত্রাসবাদে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। বিশেষত পহেলগাম জঙ্গি হামলায় নিহতদের পরিবার প্রশ্ন তুলেছেন, যখন পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসের দায়ে অসংখ্য প্রাণ গেছে, তখন কেন খেলার মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখা হচ্ছে ?
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কাশ্মীরের পহেলগামে নৃশংস জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন নিরীহ নাগরিক। প্রথমে এর দায় স্বীকার করেছিল পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার শাখা দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট, তবে পরে তারা দায় অস্বীকার করে।
ঘটনার পর ভারতীয় সেনা পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাঁটিগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে শুরু করে অপারেশন সিঁদুর। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানও সীমান্তে গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা চালায়। টানাপোড়েনের পর গত ১০ মে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়।
এই পরিস্থিতিতে জঙ্গি হানায় নিহতদের পরিবারে ক্ষোভ তীব্র হয়েছে। সাওন পারমার, যিনি ওই জঙ্গি হামলায় তাঁর বাবা ও ভাইকে হারিয়েছেন, বলেন, “ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজনের খবর পেয়ে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক থাকা উচিত নয়। যদি খেলতেই চান, তবে আমার ১৬ বছরের ভাইকে ফিরিয়ে দিন, ফিরিয়ে দিন আমার বাবাকে, যারা গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে মারা গেছে। এখন মনে হচ্ছে অপারেশন সিঁদুর সব বৃথা গেল।”
তাঁর মা কিরণ যতীশ পারমার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে বলেন, “এই ম্যাচ একেবারেই হওয়া উচিত নয়। আমি প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, যখন অপারেশন সিঁদুর এখনও শেষ হয়নি, তখন কেন ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হচ্ছে? গোটা দেশ যেন একবার পহেলগাম হামলায় নিহতদের পরিবারগুলির কাছে যায় এবং দেখে আমরা কতটা ভেঙে পড়েছি। আমাদের ক্ষত এখনও শুকায়নি।”
ভারতজুড়ে ইতিমধ্যেই এই ম্যাচের বিরুদ্ধে ব্যাপক বয়কট প্রচার শুরু হয়েছে। তবে বিতর্ক ও প্রতিবাদ সত্ত্বেও, সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর বিসিসিআই ম্যাচ থেকে ভারতকে প্রত্যাহার করেনি।
