হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের (হ্যাল) অত্যাধুনিক তেজস যুদ্ধবিমান তৈরির কারখানায় সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে দেশীয় লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট। এয়ারফ্রেম তৈরি শেষ, অ্যাভিওনিক্স পরীক্ষা সম্পূর্ণ, ক্ষেপণাস্ত্র লাগানো, সবই প্রস্তুত। তবুও আকাশে ওড়ার অপেক্ষায় যুদ্ধবিমানগুলি। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইঞ্জিন সরবরাহে দেরি।
এক সাক্ষাৎকারে হ্যালের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডি কে সুনীল বলেন, “মাত্র কয়েক দিন আগে জেনারেল ইলেকট্রিক থেকে তৃতীয় ইঞ্জিন এসেছে। আমরা এটি বিমানে বসাতে প্রস্তুত। সব বিমানই তৈরি, সমস্যা শুধু ইঞ্জিনের সরবরাহে। জেনারেল ইলেকট্রিক আশ্বাস দিয়েছে, তারা সরবরাহ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করবে।”
এই অর্থবছরে ভারতীয় বায়ুসেনাকে তেজস যুদ্ধবিমানের ১২টি ইঞ্জিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে হ্যাল। কিন্তু ইঞ্জিন সরবরাহে ভাটা পড়ায় সেই লক্ষ্য পূরণে সংশয় দেখা দিয়েছে। ডি কে সুনীল বলেন, “সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতেও আমরা অন্তত ১০টি বিমান দিতে পারব। সফটওয়্যার ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ নিয়ে কিছু সমস্যা ছিল, সেটিও চলতি মাসেই সমাধান হবে।”
সম্প্রতি রাজস্থানের পোখরানে অনুশীলনের সময় তেজসের একটি বিমান দুর্ঘটনায় পড়ে। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে হ্যাল প্রধানের দাবি, “এটি রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যা, ডিজাইনের নয়। জেনারেল ইলেকট্রিক কিছু বিশেষ পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে। এর বাইরে নিরাপত্তা রেকর্ড অত্যন্ত ভাল।”
ইঞ্জিন সরবরাহে দেরি ফের দেশীয় জেট ইঞ্জিন তৈরির প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। হ্যালের দাবি, তাদের দিক থেকে প্রস্তুতি সম্পূর্ণ, বাধা হচ্ছে মার্কিন সংস্থার সরবরাহে দেরি হওয়ার কারণে।
এ বছরের শুরুতে ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান অমরপ্রীত সিং হ্যালের বিলম্বিত ডেলিভারি নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। যদিও উৎপাদন দক্ষতায় অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু বিদেশি ইঞ্জিনের উপর নির্ভরতা, কৌশলগত দুর্বলতা রয়ে গেছে।
তেজস যুদ্ধবিমান সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, হ্যালের ইঞ্জিনিয়াররাও প্রস্তুত। কিন্তু ইঞ্জিন সময়মতো এলে তবেই আকাশে উড়বে ভারতের নিজস্ব যুদ্ধবিমান।
