সোমবার ভোররাতে পাকিস্তান এয়ার ফোর্সের বিমান হামলায় সেই দেশেরই খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর। মৃতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ২টো নাগাদ তিরাহ উপত্যকার মাতরে দারা গ্রামে হামলাটি চালানো হয়। পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান আটটি এলএস-৬ বোমা ফেলে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ ঘটায়। মৃত সকলেই সেখানকার সাধারণ নাগরিক।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, অনেক মানুষ আহত হয়েছেন, তবে তাঁদের শারীরিক পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভয়ঙ্কর ছবি ও ভিডিয়োতে শিশুদের দেহও মাটিতে ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচে দেহ খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
খাইবার পাখতুনখোয়ায় অতীতে বহু সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে, যেখানে অসংখ্য সাধারণ নাগরিকের প্রাণহানি হয়েছে। চলতি বছরের জুনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে জানায়, এই অঞ্চলে বারবার ড্রোন হামলা পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের নাগরিক জীবনের প্রতি মারাত্মক অবহেলার ইঙ্গিত বহন করছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়ার ডেপুটি রেজিওনাল ডিরেক্টর ইসাবেল লাসি বলেন, “পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ অসামরিক নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার মানুষ ক্রমবর্ধমান ড্রোন হামলার শিকার হচ্ছেন। গত শুক্রবারের হামলায় এক শিশুর মৃত্যু এই আতঙ্কজনক ধারাবাহিকতার অংশ, যা মার্চ থেকে আরও তীব্র হয়েছে।”
খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রদেশটিতে ৬০৫টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৩৮ জন অসামরিক নাগরিক এবং ৭৯ জন পুলিশ নিহত হয়েছে। শুধু আগস্ট মাসেই ১২৯টি হামলা হয়েছে, যার মধ্যে সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর ৬জনের মৃত্যু হয়েছে।
অপারেশন সিনদূর-এ পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি বড় জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস হওয়ার পর জৈশ-ই-মহাম্মদ, হিজবুল মুজাহিদিন-এর মত জঙ্গি সংগঠনগুলি নতুন করে ঘাঁটি গড়ছে খাইবার পাখতুনখোয়ার গভীর জঙ্গলে, আফগান সীমান্তের কাছে। দুর্গম পার্বত্য ভূখণ্ড ও সীমান্তবর্তী অঞ্চল স্বাভাবিকভাবেই এসব ঘাঁটি লুকিয়ে রাখার সুযোগ করে দিচ্ছে। এ এলাকায় এখনো বহু আস্তানা রয়েছে যা ১৯৮০-র দশকের সোভিয়েতবিরোধী আফগান যুদ্ধ এবং ৯/১১-র পর মার্কিন আগ্রাসনের সময় নির্মিত হয়েছিল।
