লখনউয়ের এক আদালত সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর সম্পাদক স্মিতা প্রকাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ মামলা নথিভুক্ত করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সংস্থাটি ভারতের নির্বাচন কমিশনের নামে ভুয়ো খবর প্রকাশ করেছে।
প্রাক্তন আইপিএস অমিতাভ ঠাকুরের দায়ের করা অভিযোগের শুনানি শেষে আদালত জানায়—
“অভিযোগপত্র ও লিখিত উপস্থাপনাগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। এখনই এক্তিয়ার বা অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় না গেলেও দেখা যাচ্ছে, অভিযোগ প্রক্রিয়াগতভাবে সঠিক। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধ্যায় ১৫-এর বিধান অনুযায়ী, এটি অভিযোগ মামলা হিসেবে নিবন্ধনযোগ্য। তাই মামলা, অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হোক। অভিযোগকারীকে ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে শপথপত্রে বিবৃতি রেকর্ড করার জন্য হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হল।”
ঠাকুরের অভিযোগ, এএনআই একাধিকবার নির্বাচন কমিশনের নামে এমন বক্তব্য প্রকাশ করেছে যা কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইট বা যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়নি। তিনি দাবি করেন, এটি মূলত কমিশনের নামে ভুয়ো খবর প্রচার করার সামিল।
অভিযোগে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের একাধিক ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ আগস্ট বিকেল ৩টা ০৮ মিনিটে এএনআই-এর এক্স (X)-এ প্রকাশিত একটি পোস্টও আছে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল নির্বাচন কমিশন রাহুল গান্ধীর ভোট চুরির অভিযোগের বিরোধিতা করেছে।
ঠাকুর আদালতে বলেন—
“আমার সর্বোত্তম জ্ঞানে, এএনআই বহুবার কমিশনের নামে খবর প্রকাশ করেছে যার কোনও সরকারি প্রমাণ নেই। এসব খবর কমিশনের ওয়েবসাইটে নেই, তাদের সামাজিক মাধ্যমে নেই, কোনও প্রেস কনফারেন্সেও প্রকাশিত হয়নি। একমাত্র এএনআই-এর বক্তব্যেই এগুলো প্রচারিত হয়েছে। এভাবে কমিশনের নামে স্বেচ্ছাচারী ও ভুয়ো খবর প্রচার করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, চাইলে তিনি এফআইআর দায়েরের জন্য পুলিশে যেতে পারতেন। তবে বিভিন্ন প্রভাবের কারণে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ নাও করতে পারে, এই আশঙ্কায় তিনি সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
ফলে, স্মিতা প্রকাশের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আদালতের কাছে আবেদন করেছেন অমিতাভ ঠাকুর।
