উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছে শহর কলকাতা। রং, আলো, ভক্তি আর উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছে চারপাশ। দুর্গাপুজোর অপেক্ষায় যখন শহর জুড়ে উন্মাদনা, তখনই নজর কেড়েছে নানা ঝলমলে আর শিল্পসমৃদ্ধ প্যান্ডেল।
দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জের আশোকনগরে সাউথ কলকাতা পল্লি সংঘ এ বছর ৭৬তম বর্ষে পা দিল। তাদের এ বছরের থিম, “বাংলা, আমার মা আর ভাষা”। এই থিমের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে উদযাপন করা হয়েছে। প্যান্ডেলের সাজসজ্জায় রয়েছে বাংলা অক্ষর ও শব্দের ছবি আঁকা।
দেবী দুর্গার সন্তানদের প্রতিমাতেও আনা হয়েছে বিশেষত্ব। দেবী লক্ষ্মীর হাতে রয়েছে ‘বর্ণপরিচয়’, শিশুদের বাংলা অক্ষর শেখার জনপ্রিয় বই। কার্তিক ও গণেশের হাতে রয়েছে কালো স্লেট, যা শিক্ষা ও জ্ঞানের প্রতীক। জ্ঞানের দেবী সরস্বতীও এই থিমকে সুন্দরভাবে সম্পূর্ণ করেছেন।
শুধু তাই নয়, এই প্যান্ডেলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জগতের মহান ব্যক্তিত্বদেরও শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। সাজসজ্জায় রয়েছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম, স্বামী বিবেকানন্দ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি ও কাটআউট। এর সঙ্গে বাংলার শব্দ আর লিপি ব্যবহার করে দেখানো হয়েছে বাংলা ভাষার শক্তি ও গৌরব। এখানে বাংলা মাকে প্রতীক হিসেবে দেখিয়ে ঐক্য, গর্ব আর সংগ্রামের বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, বাংলা এমন এক ভূমি যেখানে বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষ একসঙ্গে মিলেমিশে থাকে। তাই ভাষার ভেতর দিয়েই একতার বার্তা ছড়ানোই তাদের উদ্দেশ্য। প্যান্ডেলটি সাজানো হয়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী শালপাতা দিয়ে। প্রায় তিন মাস ধরে এই প্যান্ডেল তৈরির কাজ হয়েছে।
অন্যদিকে, টালিগঞ্জেরই আরেক কোণে শান্তি পল্লি পূজা কমিটির দুর্গা প্যান্ডেলের উদ্বোধন করেন অভিনেত্রী নীলাম কোঠারি সোনি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এটাই আমার প্রথম কলকাতায় দুর্গাপুজো। দারুণ লাগছে। আমি প্রতিবার আসব। প্রতিমার সাজসজ্জা, পুরো পরিবেশ, সবই অসাধারণ।”
সব মিলিয়ে, কলকাতার দুর্গাপুজোয় এ বছর যেমন ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটেছে, তেমনি প্যান্ডেলগুলির মাধ্যমে উঠে এসেছে বাংলা ভাষার গৌরব, নারীশক্তির বার্তা, সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা আর পরিবেশ রক্ষার ডাক। থিম প্যান্ডেলগুলো শুধু দর্শনীয়ই নয়, সমাজে একতার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
