ফিফা বিশ্বকাপের বাকি নেই আর এক বছরও। তার আগে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, আয়োজক হিসেবে তিনি যদি মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের কোনও শহর বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের জন্য নিরাপদ নয়, সেক্ষেত্রে ম্যাচগুলি সেই শহর থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেবেন।
আগামী বছর ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই কানাডা, মেক্সিকো এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যৌথভাবে বসতে চলেছে ফিফা বিশ্বকাপের আসর। তার আগে বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই সময় তাঁর দিকে খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ধেয়ে আসে সিয়াটল এবং সান ফ্রান্সিসকো নিয়ে। রাজনৈতিকভাবে অশান্ত যুক্তরাষ্ট্রের এই দুটি শহর বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য আদৌ উপযুক্ত কি না তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
সিয়াটলের লুমেন ফিল্ড এবং সান ফ্রান্সিসকো থেকে মাত্র ১ ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারার লেভি’স স্টেডিয়ামে ৬ টি করে বিশ্বকাপের ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে এই ১২ টি ম্যাচ আদৌও এই দুই শহরে আয়োজন করা উচিত কি না সে প্রশ্নই রাখা হয় ট্রাম্পের কাছে। এর জবাবে প্রথমেই তিনি জানান, শহর দুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রাথমিক লক্ষ্য।
ট্রাম্প বলেন, “আপনারা হয়ত জানেন যে, আমরা মেমফিস এবং আরও কয়েকটি শহরে যাচ্ছি। খুব শিগগিরই আমরা শিকাগোতে যাচ্ছি। বিশ্বকাপের জন্য এটা নিরাপদ হবে। যদি আমি মনে করি কোনও শহর নিরাপদ নয়, তা হলে অবশ্যই আমরা অন্য শহরের কথা ভাবব। তবে এটি আসলে খুবই ন্যায্য প্রশ্ন।” উল্লেখ্য, এর আগে ট্রাম্প জোর দিয়েই জানিয়েছিলেন যে, কোনও শহরই অনিরাপদ নয়।
তবে এদিন কিছুটা হলেও ভিন্ন সুর শোনা গেল তাঁর গলায়। ব্যাখ্যা দেন, “যদি আমাদের মনে হয় যে, কোনও শহর বিশ্বকাপ কিংবা অলিম্পিক্সের (২০২৮) জন্য একটুও বিপজ্জনক হতে চলেছে, তা হলে অবশ্যই সেই শহর থেকে ম্যাচগুলি সরিয়ে নেওয়া হবে। বিশেষ করে, বিশ্বকাপে। কারণ, এই প্রতিযোগিতাটি বিভিন্ন শহরে আয়োজিত হতে চলেছে। তবে আমি আশা করি যে, তেমন কিছু ঘটবে না।”
এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিতে চলেছে মোট ৪৮ দল। যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক। আগামী ৫ ডিসেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এদিকে বিশ্বকাপের সমস্ত বিষয়ই তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছে ফিফা। তাদের অনুমোদন ছাড়া ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ট্রাম্পের খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তাই শেষ পর্যন্ত কোনও সমস্যা হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
